আন্দোলনের কৌশল ঠিক করতে পারছে না বিএনপি

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০০
নতুন করে সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য মাঠে নামতে কৌশল ঠিক করতে পারছে না বিএনপি। দলের হাইকমান্ড নানান হিসাব কষছেন, মতামত নিচ্ছেন সিনিয়র নেতাদের। গুলশানের কার্যালয়ে প্রতিদিন তার বিশ্বস্ত উপদেষ্টা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংবাদিক, পেশাজীবীদের সঙ্গে কথা বলছেন পরামর্শ নিচ্ছেন। তবে ’কি করা উচিত’—তা স্থির করতে পারছেন না। চেয়ারপার্সনের ঘনিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তিনি একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার পর আকস্মাত্ এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে যার পরিপ্রেক্ষিতে সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে হচ্ছে। দায়িত্বশীল সিনিয়র নেতারা কেউ কেউ জেল আতংকে আছেন। কোন কোন নেতা কয়েকবার জেলখাটার পর এখন দলে পুরোপুরি সক্রিয় হচ্ছেন না। তাদের দু’একজনকে ডেকেও সময়মত পাচ্ছেন না চেয়ারপার্সন। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেলখাটার পর গতকাল জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। সার্বিক দৃশ্যপটে একের পর এক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে দলটি। আন্দোলন, নির্বাচন, দল পুনর্গঠন—কোনোটিই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারছে না বিএনপি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বাপর নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে ও বিপর্যয়ের ধকল সামলাতে ঘর গোছানোর কৌশল নিয়েছিল বিএনপি। তবে সেক্ষেত্রে কোন সফলতা নেই গত তিন মাসেও। কেন্দ্র থেকে কোনো দিকনির্দেশনা না আসায় মাঠের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা-চার্জশিট, গ্রেফতারের খড়গ নিয়েও নেতা-কর্মীদের মধ্যে দুশ্চিন্তার ছাপ দেখা গেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতাদের দফায় দফায় কারাবরণেও উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় সাধারণ নেতা-কর্মীরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ও ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ বললেন, আন্দোলনের জন্য কিছুটা প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। গণমানুষের সুবিধা-অসুবিধাগুলোও দেখার বিষয় থাকে। এই মুহূর্তে সরকার হটানোর মতো কঠোর আন্দোলনে যাওয়া কি করে সম্ভব? কারণ চলমান এইচএসসি পরীক্ষার পরই রমজান মাস ঘনিয়ে আসবে। তারপর ঈদ। সঙ্গত কারণেই রমজান মাসে কোন আন্দোলন কর্মসূচি এ দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রমজানের পরপরই অক্টোবর মাস পর্যন্ত বর্ষা মওসুম থাকবে। বর্ষা মৌসুমেও কোনো কঠোর আন্দোলন জমে না। নভেন্বর মাসে প্রাইমারি এবং হাইস্কুল পর্যায়ের বার্ষিক পরীক্ষা। তারা বলেন, আমাদের আন্দোলন চলছে। থেমে নেই। দলের চেয়ারপার্সন কর্মসূচি চূড়ান্ত করবেন। মাহবুবুর রহমান বলেন, জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির পাশাপাশি ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন করবো। আপাতত জনদুর্ভোগ হয় এমন কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে না। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বাকি ২১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আছে। সেখানেও দলের ব্যস্ততা থাকবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতিমূলক যা কিছু করা দরকার তা করা হচ্ছে। চেয়ারপার্সন আলাপ-আলোচনা করছেন। দলের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বিএনপির এই মুহূর্তে আন্দোলনে নামতে গেলে যে কৌশল প্রয়োজন তা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা দেখানোর মত পরিস্থিতি নেই। নেতারা আপাততপরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য চেয়ারপার্সনকে পরামর্শ দিচ্ছেন। মাঠে না নেমে দলীয় শক্তি বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করার পক্ষে অনেক নেতা মতামত দিচ্ছেন। ভারতে নির্বাচন চলছে। কোন কোন নেতা মনে করছেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে বিএনপির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি হতে পরে। এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোযোগ দিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আশানুরূপ ফল পায়নি বিএনপি। উপজেলার ফল দেখে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা ছিল। জানা গেছে, আপাতত আন্দোলনমুখী না হয়ে গণসংযোগমুখী হতে যাচ্ছে বিএনপি। আজ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত করা হতে পারে কৌশল। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার জেলা সফর, দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন করার দিকে মনোযোগ দিতে পারেন। আন্দোলনের প্রাথমিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ মাসেই জেলা সফরে বের হচ্ছেন খালেদা জিয়া। নির্বাচনের পর যেসব জেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়েছে ওই জেলাগুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে এই কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এছাড়া যেসব জেলায় ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং নেতাকর্মীরা নিখোঁজ রয়েছেন ওইসব জেলাও সফর করবেন খালেদা জিয়া। জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির পাশাপাশি ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন করবে দলটি।