বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ইসরাফিল ওরফে মিম গতকাল মঙ্গলবার ইনস্টিটিউটের পার্শ্ববর্তী তার আবাসস্থল দোলন মিয়ার মেসের কক্ষে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
গত রবিবার ক্লাস চলাকালে ইসরাফিল তার প্রেমিকা সাজরিনের সঙ্গে কথায় বলায় শিক্ষক শফিউল ইসলাম গালমন্দ করেন। ইসরাফিল উত্তেজিত হয়ে শিক্ষককে লাঞ্জিত করেন। কোতয়ালী পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মী ইসরাফিলকে আটক করলে অধ্যক্ষ মীর মোশারেফ হোসেন ঘটনার মীমাংসা করে তাকে পুলিশের কাছ থেকে মুক্ত করেন। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষক গতকাল মঙ্গলবার শফিউল ইসলামের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে মানববন্ধনের আয়োজন করে ইসরাফিলের বিচার দাবি করেন। ৮/১০ জন ছাত্রলীগ কর্মী এসে মানববন্ধনে বাধা দেয়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে যখন উত্তেজনা বিরাজ করছিল তখন ইসরাফিল ও তার সহপাঠীদের অব্যাহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল শিক্ষক শফিউল ও ঐ বিভাগের শিক্ষকরা। তারা মানববন্ধনে না এলে সকল পরীক্ষায় ফেল করানোর হুমকি দেয়া হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। এ নিয়ে সহপাঠীদের চাপের মুখে পড়ে ইসরাফিল। এক পর্যায়ে সে অভিমান করে বিকালে মেসের কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মতিয়ার রহমান জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মিমের মৃত্যুর সংবাদ শুনে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এ মৃত্যুকে তারা হত্যা দাবি করে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন বান্দ রোড অবোরধ করে। এসময় যানবাহন ভাংচুরের চেষ্টা চালালে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। ঐ এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মতিয়ার রহমান। এ নিয়ে ক্যাম্পাস জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।
