কাল চট্টগ্রামে শানে রেসালাত সম্মেলন

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:৩৯
দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর চট্টগ্রামে আবার বড় ধরনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ইতিপূর্বে পুলিশের অনুমতির অভাবে একাধিকবার সম্মেলন করতে ব্যর্থ হলেও এবার অনুমতি নিয়েই নগরীর লালদীঘি ময়দানে দু’দিনব্যাপী শানে রেসালত সম্মেলন আয়োজন করেছে তারা। হেফাজত নেতারা জানান, আগামীকাল জুমার নামাজের পর সম্মেলন শুরু হবে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর আখেরী বয়ান ও মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় সম্মেলন শেষ হবে। বিশ্বনবী (সা.) এর জীবনাদর্শ আলোচনা উপলক্ষে আয়োজিত এ শানে রেসালত সম্মেলনে ব্যাপক লোকসমাগম হবে বলে হেফাজত নেতারা আশা করছেন। ইতিমধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং, মাইকিং এবং তৃণমূল পর্যন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তারা। সমপ্রতি কক্সবাজার, সিলেট, ফেনী ও নোয়াখালিতে শানে রেসালত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও চট্টগ্রামের সমাবেশটি আগের তুলনায় বিশাল হবে বলে হেফাজত নেতারা জানান। গত বছর ১ এপ্রিল চট্টগ্রামে এ ধরনের একটি সমাবেশ থেকে ১৩ দফা দাবির সমর্থনে ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করে হেফাজতে ইসলাম। ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত লংমার্চ কর্মসূচি শেষ হয় রাজধানীর শাপলা চত্বরে বিশাল সমাবেশের মধ্য দিয়ে। এরপর ১৩ দফা দাবির সমর্থনে ৫ মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তবে ৫ মে’র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে রাজধানীর জনজীবন অচল হয়ে পড়ে। ৫ মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির পর দীর্ঘদিন যাবত্ হেফাজতকে বড় ধরনের কর্মসূচি করতে দেখা যায়নি। গত ১৫ নভেম্বর ঢাকায় এবং ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে সমাবেশ ডাকলেও সরকার তাদেরকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি বলে হেফাজত নেতারা অভিযোগ করেন। তারা আরো অভিযোগ করেন, ১৫ নভেম্বরের সমাবেশে যোগ দেয়ার জন্য চট্টগ্রাম থেকে যাত্রার প্রাক্কালে হেফাজত আমীর ও শীর্ষ নেতাদের হেফাজতের সদর দফতর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় অবরুদ্ধ করে রাখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বড় ধরনের সমাবেশ করতে না পারলেও গত এক বছর ধরে নানাভাবে আলোচনায় ছিলো হেফাজতে ইসলাম। গত বছরের ৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার এলাকায় হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি ইজহার পরিচালিত একটি মাদ্রাসায় রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজনের মৃত্যুতে পুনরায় আলোচনায় আসে সংগঠনটি। এ ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলায় মুফতি ইজহারের পুত্র মুফতি হারুন ইজহারসহ ৮জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে মামলার অন্যতম আসামি মুফতি ইজহার পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া গত এক বছরে বিভিন্ন সময় ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসসহ কয়েকটি দূতাবাসের কর্মকর্তারা চট্টগ্রামে এসে হেফাজত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার বিষয়টিও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লালদীঘি ময়দানে শানে রেসালত সম্মেলন আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী ইত্তেফাককে বলেন নতুন প্রজন্মের মনে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা বিকাশের লক্ষ্যেই এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।