অবশেষে দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর চালু হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বিসিআইসি পরিচালিত চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার বাড়বকুন্ডে অবস্থিত কেমিক্যাল কমপ্লেক্স। সবকিছু ঠিকঠাক মতো চললে আগামী ডিসেম্বরে দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর কস্টিক সোডাসহ সর্বমোট পাঁচ ধরনের রাসায়নিক পণ্য উত্পাদন শুরু করবে কমপ্লেক্স।
২০০২ সালে তত্কালীন সরকার দেশীয় স্বার্থান্বেষী চক্রের পরামর্শে বন্ধ করে দিয়েছিলো সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি। ঐ চক্রের কেমিক্যাল কমপ্লেক্স বিরোধী চক্রান্ত এখনো অব্যাহত।
কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক লুত্ফর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, আগামী ডিসেম্বরে কারখানাটি চালু হলে এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিক মিলিয়ে সর্বমোট ৩৭০ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থান হবে। তিনি জানান, বর্তমানে প্ল্যান্ট বসানোর কাজ চলছে, তার সাথে একটি ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার নিজস্ব ক্যাপটিভ বিদ্যুেকন্দ্রও স্থাপন করা হচ্ছে। এই কারখানা চালু ও উত্পাদনে থাকবে বছরের ৩০০ দিন। দৈনিক উত্পাদন করবে ২০ টন লিকুইড ও সলিড কস্টিক সোডাসহ অন্যান্য রাসায়নিক পণ্য। যার মধ্যে আরো রয়েছে হাইড্রোক্লোরিক এসিড, ব্লিচিং পাউডার, ক্লোরিন এবং বাই-প্রোডাক্ট হিসাবে হাইপো। তিনি জানান, কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে নতুন যন্ত্রপাতি ও বিদ্যুত্ প্ল্যান্ট বসানোর কাজ করছে চীনা কোম্পানি উয়াং আনিয়াং সায়েন্স এন্ড টেকনোলোজি কোম্পানি লিমিটেড। এই কাজ শুরুর কাউন্ট ডাউন চলছে ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর থেকে। কেমিক্যাল কমপ্লেক্স নতুনভাবে চালু করার লক্ষ্যে বিসিআইসি’র মাধ্যমে সরকার ঋণ প্রদান করেছে ১১৪ কোটি টাকা। এখানে উত্পাদিত কস্টিক সোডাসহ অন্যান্য পণ্য বিসিআইসি’র পরিচালনাধীন সার কারখানা, কাগজ কলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো কিনে নেবে। ফলে মাত্রাতিরিক্ত মূল্যে বাইরে থেকে এসব রাসায়নিক পণ্য কেনা কমে গেলে সরকারের বছরে সাশ্রয় হবে শত কোটি টাকা।
কমপ্লেক্সের সিবিএ নেতা মোহাম্মদ নাসির ইত্তেফাককে জানান, দরপত্রের মাধ্যমে চীনা কোম্পানী নিয়োগের পর কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের মেশিন বসানো, অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনসহ অন্যান্য কাজ ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকেই পুরোদমে চালু হয়েছে। ষাটের দশকে স্থাপিত এই কারখানাটি দীর্ঘ প্রায় এক যুগ বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে। বেসরকারি একটি মহল এখনো এই কারখানাটি চালুর ব্যাপারে নাখোশ উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসির বলেন, কারখানাটি চালু হলে বিসিআইসি ও দেশের মানুষের উপকার হবে।
