গজারিয়া উপজেলার ইসমানিরচর গ্রামে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের ১৪টি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছে। আতঙ্কে রয়েছে গ্রামের সাধারণ মানুষ। বেশ কয়েকটি পরিবারের পুরুষ সদস্যরা গ্রামছাড়া। দরিদ্র একটি জেলে পরিবারের বিয়ের উপকরণ লুট করা হয়েছে। এই সংবাদ সংগ্রহে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজয় টিভির প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম সেখানে গেলে হামলাকারীরা তাকে প্রায় আধা ঘণ্টা জিম্মি করে রাখে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গজারিয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা বুধবার রাতে আকস্মিক হামলা চালায়। বিজয়ী দলের সমর্থকরা রামদা নিয়ে বাড়িঘরগুলো এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। ভাংচুর করেছে মূল্যবান সামগ্রী। টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়েছে। এতে পরাজিত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার সমর্থক এই গ্রামের ১শ’ পরিবারের পুরুষ সদস্য এখন গ্রামছাড়া।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গজারিয়া থানার এসআই আলিনুর রেজা ঘটনাস্থল থেকে জানান, হামলার সময় ঘর ও আসবাবপত্র ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে। জেলে মোহাম্মদ ফরাজির কন্যা তিশা আক্তারের বিয়ের সব কাঁচাবাজার লুট করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিয়ের দিন ধার্য ছিল। পরিবারটির অনেকেই গ্রামছাড়া। তাই শুক্রবারের এই বিয়ে এখন বরের বাড়িতেই সম্পন্ন হবে।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বাতেন সরদার, হাদিল সরদার, নুরুল ইসলাম ফরাজির বেশ কয়েকটি ঘর ভাংচুর হয়েছে। তবে গ্রামবাসীরা জানিয়েছে, দেলোয়ার মেম্বার, রিপন ব্যাপারী, শামসুল হক, আ. খালেক, শাহজালাল ও আব্দুলের ঘরও ভাংচুর হয়েছে। এসব পরিবারে কোন পুরুষ সদস্য বাড়িতে নেই। পুলিশ জানায়, বুধবার ৯টি কেন্দ্রে পুন: ভোট সম্পন্ন হওয়ার পর রেফায়েতউল্লাহ খান তোতাকে বিজয়ী ঘোষণার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে হামলা হয়। এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ১৬ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়।
