সেশন জটের কবলে রাবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৬
সাতটি কোর্সের পরীক্ষা। গত বছরের ২৪ নভেম্বর পরীক্ষা শুরু। এরপর কয়েকবার পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন। ফলে গত পাঁচ মাসে মাত্র চারটি পরীক্ষা সম্পন্ন। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার চিত্র। হরতাল-অবরোধ, সহিংসতায় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকা এবং সর্বশেষ ছাত্রলীগের ধর্মঘটের কারণে শুধু এই বিভাগের তৃতীয় বর্ষেই নয় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার চিত্র এখন এরকম। ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষার্থী পড়েছে ভয়াবহ সেশনজটের কবলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘প্রতিবছর জানুয়ারিতে নতুন বর্ষ শুরু হলেও এবার তা হয়নি। অনেক চেষ্টায় সেশনজট কিছুটা কমানো গেলেও বর্তমানের জট কাটতে তিন থেকে চার বছর সময় লেগে যাবে।’ হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের শিক্ষার্থী দিপু চন্দ্র মন্ডল জানান, এতোদিন তাদের পঞ্চম সেমিস্টারের ক্লাস প্রায় শেষের দিকে থাকার কথা। অথচ তাদের চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষাই শেষ হয়নি। তাদের পরীক্ষা ১৬ নভেম্বর শুরুর কথা থাকলেও পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন হতে হতে অবশেষে ১২ মার্চ থেকে শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক অনুষদের ডিন আনছার উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, গত তিন দিনে অনুষদের বেশ কয়েকটি বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। কোনো পরীক্ষা একবার পেছালে নতুন করে সময়সূচি দিতে গেলে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লেগে যায়। এতে করে আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো আবারও পিছিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর অক্টোবর বা নভেম্বর থেকে বিভিন্ন বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে তা শেষ হয়। গত বছর পরীক্ষার সময় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হরতাল-অবরোধে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগ। নির্বাচনের পর ১৬ জানুয়ারি থেকে সান্ধ্য মাস্টার্স কোর্স বন্ধের দাবি ও পরবর্তীতে বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। ২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের যৌথ হামলায় ৩৫ দিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকে। সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম আলী আকন্দ খুনের ঘটনায় ক্যাম্পাসে ধর্মঘট ডাকে ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত ক্লাস গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামীতে বড় ধরনের কোন সমস্যা না হলে কয়েক মাসের এ সেশনজট থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।