তারেকের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৭
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বলে সম্প্রতি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এ জন্য তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের আগের সহিংসতার কারণে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি যে ভুল করেছে সেই আফসোস-হতাশা থেকেই বিএনপি এসব মিথ্যাচার করছে। সীমার বাইরে গিয়ে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জন্য সুখকর হবে না। একটি ঐতিহাসিক সত্য হলো- বঙ্গবন্ধু না থাকলে বাংলাদেশের সৃষ্টি হতো না। তারেক রহমানকে দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যদি সত্ সাহস থাকে, দেশে ফিরে আসুন। দুর্নীতি, অর্থ পাচার, লুণ্ঠনসহ আপনার বিরুদ্ধে জনগণের যে বহুমুখী অভিযোগ রয়েছে, তার মোকাবিলা করুন। আদালতে আত্মসমর্পণ করুন। কালিমা লিপ্ত মুখকে সাদা করার চেষ্টা করুন। তারপর কথা বলুন। হাছান মাহমুদ বলেন, দেশ থেকে পাচারকৃত চোরাই লুটের অর্থ দিয়ে আমোদ-ফুর্তি করা ছাড়া লন্ডনে তারেক রহমানের আর কোনো কাজ নেই। জনগণ হাওয়া ভবনের কর্ণধারকে হাওয়ার মতোই ভুলে গেছে। তাই হাওয়া মিয়া মিথ্যাচার করে আলোচনায় আসতে লন্ডনে বসে অর্বাচীনের ন্যায় দাম্ভিকতা দেখান, ঔদ্ধত্যপর্ণ আচরণ করেন। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাতে লন্ডনের ওয়েস্ট মিনস্টার সেন্ট্রাল হলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সুশীল সমাজের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটূক্তি করেন। হাছান মাহমুদ বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। এরপর ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি প্রথম অফিস করেন। ওই দিনই রাষ্ট্রপতির এক আদেশে দেশে অস্থায়ী শাসনতন্ত্র জারি হয়। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী হন রাষ্ট্রপতি। সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত এই সরকারের অধীনেই বাংলাদেশ পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ শেখ মুজিবুর রহমান ও তার দল আওয়ামী লীগকে ম্যান্ডেট দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির আইনানুগ অভিভাবকত্ব পেয়েছিলেন। তাহলে বঙ্গবন্ধু অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হলেন কীভাবে? এ সময় তারেক রহমানকে ‘বঙ্গভবনের শতবর্ষের ইতিহাস’ বইটি পড়ার পরামর্শ দেয়া হয়। হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান ২৬ মার্চ, ১৯৭১ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। সুতরাং ২৬ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি। আর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের কার্যকালে দেখা যায়, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, বাধ্য হয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডেও জিয়া জড়িত। জিয়া রাষ্ট্রপতি পদ যেভাবে অবৈধভাবে নিয়েছিলেন, তেমনি সেনাপ্রধানের পদও অবৈধভাবে নেন। বাংলাদেশের আদালত জিয়ার পুরো শাসনকালকেই অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।