বন্ধ হয়ে যাওয়া পণ্যগুলো

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:২৭
নামকরা অনেক প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু পণ্য এবং সাইট অনেক সম্ভাবনা জাগিয়ে, আলোড়ন তুলে চালু হয়েছিল। বেশ কিছু দিন সেসব পণ্য টিকেও ছিল। এমনকি কয়েকটি ছিল ওই সময়ের সেরা পণ্যও। কিন্তু তারপরও নানা কারণেই চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু সাইট এবং বেশ কিছু পণ্যের উত্পাদন। জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম স্মার্টফোনের সঙ্গেই মিলছে ক্যামেরা, মিডিয়া প্লেয়ার এবং যোগাযোগের মাধ্যম। একটি ডিভাইসে এতসব সুবিধার ফলে সোস্যাল ওয়েবই দ্রুত আইডিয়া সংকটে পড়ে গেছে। আর চলতি বছরের শুরুর ভাগটাও ছিল অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন সময়। আর এই প্রতিযোগিতার বাজারে টিকতে না পেরেই বন্ধ হয়ে গেল বেশ কিছু পণ্যের উত্পাদন। এগুলো আর কখনও উত্পাদন করা হবে না বলেই প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য পণ্য উত্পাদনে ঝুঁকেছে। সনি পিএসপি গো হ্যান্ডহেলড সনি কর্পোরেশন সম্প্রতি পিএসপি গো হ্যান্ডহেলড নামের গেমিং ডিভাইসটির মৃত্যু ঘোষণা করেছে। সনি জানিয়েছে, ডিভাইসটির চড়া দাম আর ডাউনলোড করে গেম খেলার অপশনের জন্যই সনির অন্যান্য গেমিং ডিভাইসগুলোর সঙ্গেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছিল। নতুন গেমিং ডিভাইস পিএসপি-৩০০০-এর স্বল্পমূল্য, নিনটেনডো ডিএস লাইট বাজারে চলে আসায় জনপ্রিয়তা কমে গিয়েছিল পিএসপি গো-এর। আর তাই ডেডলাইন সমাপ্তির ২ বছর আগেই উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেল একসময়ের জনপ্রিয় গেম ডিভাইসটির। ইয়াহু বাজ ইয়াহু বাজ সার্ভিসটি মূলত চালু হয়েছিল ডিগ, রেডিটের সাইটগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। কিন্তু এটি সফল হয়নি। আর তাই সার্চ জায়ান্ট ইয়াহুর অন্যতম সার্ভিস ইয়াহু বাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইয়াহু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ‘ইয়াহু বাজ সার্ভিসটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজটি ছিল বেশ কঠিন। তবে, এই সার্ভিসটি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ইয়াহু এখন অন্যান্য সার্ভিসগুলোসহ নতুন সার্ভিসের দিকে মনোযোগ দিতে পারবে।’ উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ইয়াহু বাজ সার্ভিসটি চালু হয়েছিল। এই সার্ভিসটির ব্যবহারকারী একটি কমিউনিটি প্লাটফর্মের মাধ্যমে নিউজ স্টোরি শেয়ার করার সুযোগ পেতেন। ইয়াহু মাইব্লগলগ টুইটার এবং টাম্বলারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই মাইব্লগলগ সাইটটি নিজের করে নিয়েছিল সার্চ জায়ান্ট ইয়াহু। কিন্তু ইয়াহু বাজের মতো এই সাইটটিরও জনপ্রিয়তায় ধস দেখে সাইটটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০০৭ সালে সাইটটি কেনার পর মাত্র ৪ বছর না পেরোতেই সাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদিও মিডিয়া হিসেবে ব্লগের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। এদিকে, অন্যান্য সাইটে ব্লগের বিভিন্ন অপশন এবং সুবিধায় এই সাইটটি ব্যবহার ক্রমশ কমে গেছে। ফলে, ইয়াহুও এদিকে সময় দেওয়ার কোনো অর্থ খুঁজে পায়নি। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের ২৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইটটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সাইটটি মূলত ব্লগারদের কমিউনিটি তৈরি করে। এই সাইটটি ব্লগারদের উইজেড ট্র্যাক করে কমিউনিটিতে প্রকাশ করে। গুগল ভিডিও এ সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সার্চ জায়ান্ট গুগলও। তবে সাইটটি বন্ধের আগে যেসব ব্যবহারকারী তাদের বিভিন্ন ভিডিও সাইটটিতে আপলোড করেছিলেন, তাদের ভিডিওগুলো ডাউনলোড করে অন্য কোথাও সংরক্ষণের অনুরোধ করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপলোড করা ভিডিও ডাউনলোড না করলে সেগুলো মুছে ফেলা হবে বলে জানিয়েছিল গুগল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০০৬ সালে ইউটিউব ভিডিওসেবা কেনার পরেই গুগল ভিডিওর শেষ দেখে ফেলেছিলেন বিশ্লেষকরা। আর সেই আশংকাকে সত্যি করেই ভিডিওসেবা বন্ধ করে দিয়েছে গুগল। জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবকে আরও জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। ফ্লিপ ওয়েব ভিডিও ক্যামেরা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্লিপ বন্ধ হয়ে গেলো। ফ্লিপ কেনার দুই বছরের মধ্যেই এটিকে বন্ধ করে দিয়েছে ফ্লিপের বর্তমান মালিক কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং প্রতিষ্ঠান সিসকো। দুই-তিন বছর আগেও সস্তা, সহজ এবং ছোট আকারের ফ্লিপ ডিভাইস বেশ জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু বর্তমানে ভিডিও ক্যামেরা এবং অনবোর্ড স্মার্টফোন ক্যামেরার প্রচলন বেড়ে যাওয়ায় ফ্লিপ ক্যামেরার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে। এদিকে, সিসকোও ফ্লিপ ভিডিও ক্যামেরা ইউনিটের কোনো ক্রেতা খুঁজতে ব্যর্থ হয়। তাই বাধ্য হয়েই ফ্লিপ বন্ধ ঘোষণা করে সিসকো। ২০০৯ সালে ৫৯০ মিলিয়ন ডলারে ফ্লিপ কিনেছিল সিলিকন ভ্যালির শীর্ষস্থানীয় নেটওয়ার্কিং পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিসকো। এ সময় সিসকোর উদ্দেশ্য ছিল ফ্লিপকে অন্য ভোগ্যপণ্যে রূপান্তর করা। এ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ৫৫০ জন কর্মকর্তা তাদের চাকরি খুইয়েছেন। জানা গেছে, ফ্লিপ ক্যামেরা চালানোর বিষয়টি ছিল বেশ সহজ। এটিতে কেবল একটি বাটনেই চালু করা বা বন্ধ করার কাজটি করা যেত। এই ক্যামেরায় আলাদা কোনো মেন্যু ছিল না। পাশাপাশি বিল্ট ইন ইউএসবি অ্যাডাপ্টর থাকায় ভিডিও কোনো হার্ডড্রাইভে বা ওয়েবে কোনো কেবল ছাড়াই আপলোড করা যেত। সনি বন্ধ করল এনইএক্স-৩ মাত্রই সাত মাস যেতে না যেতেই এনইএক্স-৩ ক্যামেরার উত্পাদন বন্ধ করে দিল ইলেক্ট্রনিক জায়ান্ট সনি। আর এই ক্যামেরার উত্পাদন বন্ধের পেছনে রয়েছে সনিরই তৈরি এনইএক্স-৫ সিরিজের ক্যামেরা। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে লেন্স পরিবর্তনযোগ্য ডিএসএলআর এবং পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ক্যামেরার যোগসূত্র বলে পরিচিত এ ক্যামেরাটি চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে সনি।