৭ দিনের সাত জানা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:২৮
পৃথিবীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এর আগে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রার রেকর্ডটি করা হয় ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথভ্যালিতে। কিন্তু অতি সম্প্রতি মেক্সিকোর নেইকা শহরের কাছাকাছি একটি গুহায় এরচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। অধিকাংশ গুহারই একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা থাকে এবং ভূ-পৃষ্ঠের থেকে সেটি বেশি শীতল হয়ে থাকে। কিন্তু এই গুহার তাপমাত্রা এর বিশেষ ভৌগলিক আকৃতির জন্য এমন অস্বভাবিক হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। সাধারণত আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় শীতল বাতাস দেহের ভেতরে প্রবেশ করে এবং গরম বাতাস বের হয়ে যায়। তাদের ধারণা, এই গুহায়ও বায়ু চলাচল ব্যবস্থা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই। বিশেষ এক ধরনের টিউবের মাধ্যমে এখানে শীতল বায়ু প্রবেশ করানোর মাধ্যমে এখানে কেউ ২০-৩০ মিনিট অবস্থান নিতে পারবেন। কিন্তু এই ব্যবস্থা না নিলে যে কেউ হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দশ মিনিটের মধ্যে মারা যেতে পারেন। শনির কতটুকু দেখা সম্ভব অনেক সময় একটি গ্রহ বা উপগ্রহের যে আকার থাকে, তার থেকে কম আকারে দেখা যায়। ১৬১০ সালে গ্যালিলিও গ্যালিলি যখন শনির অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন তখন এটির ৭০০০ কিলোমিটার বা ৪৩৫০ মাইল পর্যন্ত দেখা যেত। যদিও এর প্রকৃত ভূ-পৃষ্ঠের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০০০০ কিলোমিটার, তথা ৪৯৭১০ মাইল। সিদ্ধ ভাতের দূষণ সঠিকভাবে চাল সিদ্ধ করে ভাত রান্না করার দু ঘণ্টার মধ্যে তা ক্যালিব্রাটেড রেফ্রিজারেটরে রেখে দিলে ভালো থাকে। তখন আর ভয়েরও কিছু থাকে না। কিন্তু ভাত রান্নার পর অসংরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখলে ভাত থেকে দূষণ হতে পারে। কেননা, চাল প্রাকৃতিকভাবেই বেসিলাস সেরাস নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার স্পোর বহন করে। আর এই ব্যাকটেরিয়ার স্পোরটি সিদ্ধ চালের মধ্যে বংশ বৃদ্ধি করতে শুরু করে। সিদ্ধ চাল দ্বিতীয় বার সিদ্ধ করলেও এই ভাইরাস দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। আর তখন সেই ভাত খেলে ডায়রিয়া কিংবা বমি হতে পারে। অনেক খাদ্যই সংরক্ষণের অভাবে পচে গিয়ে মানুষকে অসুস্থ করে ফেলতে পারে। ভাতের এই ব্যাকটেরিয়া একটি নীরব ঘাতক, অনেক মানুষই এর সম্পর্কে জানে না। আর সে কারণে তারা এই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সহজেই আক্রান্ত হয়ে পড়ে। পৃথিবীর নিচু দেশ সমুদ্র-পৃষ্ঠ থেকে সবচেয়ে কম উচ্চতার দেশ আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপ। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে দেশটির উচ্চতার ব্যবধান আশঙ্কাজনক হারে কমে আসছে। দেশটির সর্বোচ্চ স্থানের উচ্চতা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২.৪ মিটার বা ৭.৯ ফুট। কিন্তু আসল ব্যাপার হলো—এর আশি ভাগ অংশই সমুদ্র পৃষ্ঠের এক মিটারেরও কম (৩.৩ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। যে কারণে ২০০৪ সালের সুনামিতে দেশের ৬০ ভাগের বেশি জিডিপি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর ১৪টি দ্বীপ সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যায়। আগামীতেও গ্রিন হাউজ ইফেক্টে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই দ্বীপ দেশটি। আংশকা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে দেশটি সমুদ্রে পুরোপুরি নিমজ্জিত হয়ে যেতে পারে। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি পৃথিবীতে অনেকগুলো আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এর মধ্যে এক ইন্দোনেশিয়াতেই রয়েছে ১২৯টি আগ্নেয়গিরি। কিন্তু এতগুলো আগ্নেয়গিরির মধ্যে সবচেয়ে জীবন্তু হলো—মেরাপি। বলা যায়, বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে এটি ৩০০ দিনই সক্রিয় থাকে, ধোঁয়া নির্গত করে। মেরাপির অভ্যন্তরে একটি অত্যন্ত সক্রিয় ও শক্তিশালী লাভা স্তর রয়েছে। যা থেকে প্রায়ই লাভা বের হয়ে এসে আগ্নেয়গিরির পাদদেশে নির্গত হয়। ২০১০ সালে একটি আগ্নেয়গিরির ছাই ১২ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ধোঁয়া-মেঘে আচ্ছন্ন করে রাখে। তোতলামি কী? তোতলা বা তোতলামি হলো এমন একটা ব্যাধি যা আমাদের কথা বলার সাবলীলতা ও স্বাভাবিক প্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। তোতলামোর প্রচলিত উপসর্গগুলো হলো শব্দের পুনরাবৃত্তি, শব্দ বা বাক্যের কোনো অংশ বারবার বলে যাওয়া। এ সময়ে অনেকেরই চোখ জ্বলজ্বল করতে থাকে, চেহারার মধ্যে এক ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। যদিও অধিকাংশ ছোট বাচ্চাদেরই তোতলামোর সমস্যা থাকে, কিন্তু বয়স্কদের মধ্যে মাত্র এক শতাংশ লোকই এ ব্যাধির শিকার হয়ে থাকে। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে তোতলামোর সমস্যা চারগুণ বেশি দেখা যায়। রাগের সময় অনেক স্বাভাবিক লোকের মাঝেও এ সমস্যা দেখা যায়। আলুর ক্রোমোজোম ক্রোমোজোম জীবের বিবর্তন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের শরীরে মোট ক্রোমোজোমের স্যখা ৪৬টি। এরমধ্যে ২২ জোড়া অটোজোম এবং বাকি এক জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম। কিন্তু অভাবনীয় বিষয় হলো—আলুর মধ্যে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ৪৮টি! এতগুলো ক্রোমোজোমের অধিকারী হয়েও আলু মোটেও জটিল কিংবা উন্নততর জীব হতে পারেনি। এর কারণ হলো—আলুর বংশ বৃদ্ধির সময় এই ক্রোমোজোমগুলো বারবার ভেঙে যায় এবং কিছু নষ্ট হয়ে যায়। মজার ব্যাপার হলো—একটি গোল্ডফিশের ক্রোমোজোমের সংখ্যা হলো ৯৪টি!  গ্রন্থনা সাইফুল ইসলাম জুয়েল