দুই জগতের তারকা

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৩১
একই সাথে দুই ভিন্ন জগতের বাসিন্দা ভেনেসা। কিন্তু গান ও অভিনয় এ দুই জগতকেই তিনি আপন করে টেনে নিয়েছেন। সেই সাথে কুড়িয়েছেন জনপ্রিয়তা ও প্রশংসা। তার কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম সময়টা ছিল ২০০৬ সাল, চলছিল ডিজনি স্টুডিওর ট্যালেন্ট হান্ট। সেই সময় মাত্র পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি উচ্চতার ১৭ বছরের এক মেয়ে অডিশন দিতে আসে ডিজনি স্টুডিওতে। টানা সাতটি গান গেয়ে মেয়েটি সুযোগ পেয়ে যায় ডিজনি চ্যানেলের টিভি মিউজিক্যাল ‘হাই স্কুল মিউজিক্যাল’ ছবির গ্যাব্রিয়েলা মন্টেজের চরিত্রে। আর এই এক ছবি দিয়েই লাইমলাইটে চলে আসেন ভেনেসা হাজেন্স। যদিও গান দিয়েই তার ক্যারিয়ারের শুরু। কিন্তু একসময় গায়িকা হতে চাওয়া ২২ বছরের ভেনেসা এখন পুরোদস্তুর অভিনেত্রী। ভেনেসার জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার সালিনাস শহরে। তিনি সেখানে তার পরিবারের সাথেই থাকতেন। পরে তার পরিবারসহ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াতে চলে আসেন। তার বাবা গ্রেগরি হাজেন্স একজন দমকল বাহিনী কর্মী। তার ছোট বোন স্টেলাও একজন অভিনেত্রী। অবশ্য তিনি টেলিভিশনের বেশিরভাগ কাজ করে থাকেন। ভেনেসার ছোট বোন রোমান ক্যাথলিক হিসেবে বড় হয়েছে। তার বাবা আইরিশ আর মা, ম্যানিলা একজন আমেরিকান। তবে তার পূর্ব পুরুষরা ছিলেন সংগীতের জগতের মানুষ। খুব ছোটবেলা থেকেই ভেনেসার পেছনে অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করেছে তার আগ্রহ এবং পরিবার। বেশকিছু মিউজিক্যাল থিয়েটারের সাথেও কাজ করেন এই তরুণ সাফল্য। গায়িকা হিসেবে বেশ খ্যাতি ছিল তার। তবে কখনও ভাবেন নাই যে তিনি অভিনয় করবেন। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে আজ তিনি একজন তরুণ সফল অভিনেত্রীর খাতায় নাম লেখিয়েছেন। থিয়েটার এ কাজ করার সময় ‘ক্যারোসেল’, ‘দ্য উইজার্ড অব অজ’, ‘দ্য কিং অ্যান্ড আই’, ‘দ্য মিউজিক ম্যান’ এবং ‘সিন্ডারেলা থিম’ নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। প্রায় দুই বছরের মতো থিয়েটার এবং মিউজিক নিয়ে মেতে ছিলেন তিনি। এরপর বন্ধুদের কথায় অডিশন দিতে যান বেশ কিছু টেলিভিশন প্রোগ্রামের জন্য। সেইসময় তিনি তার পরিবারের সাথে লস অ্যাঞ্জেলস-এ পাড়ি জমান। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তার অভিনয়ের ক্যারিয়ার শুরু হয়। তিনি অরেঞ্জ কাউন্টি হাই স্কুল অব আর্টস-এ পড়াশোনা করতেন। সেখানেই একটি মিউজিক বিষয়ক টিভি সিরিজের জন্য সুযোগ পেয়ে যান তিনি। এরপর শুরু হয় তার পথচলা। ভেনেসার ক্যারিয়ার ছবির কলাকুশলীদের ‘একটি বড় সুখী পরিবার’ বলতেও দ্বিতীয়বার ভাবেননি এ তারকা। পর্দার বাইরেও ছবির সহ-অভিনেত্রী অ্যাশলে টিসডেইল তার খুব ভালো বন্ধু। ছবির নায়ক জ্যাক অ্যাফরনের সঙ্গে প্রণয়ের সূত্রপাতও তখনই। পেশাগত সাফল্যের ধারাটা বোধহয় হাতের নাগালেই ছিল। তারই প্রমাণ দেন পরবর্তী দুটি সিক্যুয়েলে অভিনয় করে। তৃতীয় পর্বে অভিনয়ের জন্য পান ‘টিন চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘কিডস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই দুই মিলিয়ন ডলার উপার্জন করতে সক্ষম হন ভেনেসা। পরের বছরই তিন মিলিয়ন ডলার আয় করে স্থান করে নিয়েছিলেন ফোর্বস ম্যাগাজিনের ৩০ বছরের কম বয়সী সর্বাধিক উপার্জনকারীদের তালিকায়। তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘ভি’ পাঁচ লক্ষাধিক কপি বিক্রির পাশাপাশি বিলবোর্ড অ্যালবাম চার্টে ২৪ নম্বর স্থান দখল করে নেয়। ২০০৮-এ দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘আইডেন্টিফায়েড’ ছিল বিলবোর্ড চার্টের ২৩ নম্বরে। নন্দিত এ তারকা কিন্তু নিন্দিত হওয়া থেকেও রেহাই পাননি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যদিও তিনি মুখ বন্ধু রাখতেই পছন্দ করেন, তবুও জীবন বোধহয় তার সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতায় আসতে রাজি নয়। ১৮ বছর বয়সেই বিওপি ম্যাগাজিনের আবেদনময়ী তারকাদের তালিকায় সপ্তম স্থান অধিকার করেন। সম্প্রতি তাকে একাডেমি পুরস্কার মনোনায়ন করা হয় দুই জগতের সফল রানি হিসেবে। এই সম্মান কোনো ব্রিটিশ তারকার ক্ষেত্রে প্রথম।.