সময়টা এখন প্রযুক্তির

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৩১
আমাদের চারপাশের হাজারও সমস্যাকে বধ করতে তাই চাই প্রযুক্তির নিত্য ব্যবহার। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের টিএসএসইপি (টেক সল্যুশনস টু সোসিও-ইকোনমিক প্রবলেম)-এর আয়োজনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সমাজের নানা সমস্যার সমাধানে সামাজিক বিভিন্ন মাধ্যমের প্রয়োগ দেখিয়েছেন। অডিও ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে সচেতন করেছেন সবাইকে। আর এতে সেরা হয়েছে স্কলাস্টিকা। বিজয়ী দলের পূর্ণতা, জাহিন আর জিনিয়ার গল্প জানাচ্ছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র প্রযুক্তির উত্কর্ষের সাথে সাথে আমাদের জীবন এগিয়ে গেছে অনেকদূর। আমরা চাইলেই যেকোনো কিছুর সমাধান করে ফেলছি, সচেতনতা তৈরিতেও সামাজিক মাধ্যমগুলো রাখছে অনন্য ভূমিকা। এ রকমই কোনো একটা আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরে তার সমাধানে কতটা প্রযুক্তিনির্ভর হতে পারি আমরা, তাই নিয়েই ছিল এই কর্মশালা। দেশের শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল এখানে। চিন্তাভাবনা থেকে শুরু করে জনমত যাচাই, এমনকি ভিডিওগ্রাফি করে তা এডিট করা, পুরোটাই করতে হয়েছে টিমের সদস্যদের। আর তাদের এই পুরো আয়োজনটা পর্যবেক্ষণ করেছেন বিশিষ্ট জনেরা। তারাও মুগ্ধ হয়েছেন তরুণদের এসব উদ্ভাবনী আইডিয়া দেখে। এবার জানা যাক সেরা দলের সদস্যদের কথা। নূজহাত পূর্ণতা, উত্তরা স্কলাস্টিকার সিনিয়র সেকশনের শিক্ষার্থী। বই পড়তে ভালোবাসেন খুব, শুনতে ভালো লাগে রবীন্দ্র সংগীত। এই বয়সেই পড়ে ফেলেছেন বাঘা বাঘা সব বই, হুমায়ূন আহমেদের একটা বইও তার পড়ার তালিকা থেকে বাদ যায়নি। এত্ত পড়েন বলেই হয়তো চিন্তার পরিসরটাও বিস্তৃত তার। এ ধরনের উদ্যোগের কথা শোনার পর, চাইলেন নারী অধিকার নিয়ে কাজ করবেন, এবং তাদের সেই ভাবনাটা যথেষ্ট যৌক্তিকও বটে। আরও দুজন বন্ধু জিনিয়া আর জাহিনকে নিয়েই চলতে থাকে প্রাথমিক পরিকল্পনা। পরিবার থেকে মা তাকে অনেক অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন এর পেছনে। পূর্ণতা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের সামাজিক সচেতনতা অনেক বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া আমরা তরুণরাও যে সুযোগ পেলে অনেক কিছু করতে পারি, তার দৃষ্টান্তও হয়ে থাকবে এই আয়োজন। আশাবাদী এই তরুণ তুর্কীর বাবা-মা দুজনই দেশের শীর্ষ দুটি সংবাদপত্রে কর্মরত। পূর্ণতাও লিখছেন একটি ইংরেজি দৈনিকে। সামনের দিনগুলোতেও নিজেকে লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত রাখতে চান তিনি। দলের আরেক চটপটে সদস্য জিনিয়া। প্রথমদিনের সেমিনার সম্পর্কে বলছিলেন তিনি। বক্তারা তাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বলছিলেন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়ে কীভাবে আমাদের আর্থ-সামাজিক সমস্যাগুলোকে দূর করা যায়। তাদেরকে মূলত তিনটি দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রথমত একটা ভিডিও তৈরি করতে হবে, যাতে কোনো নির্দিষ্ট সমস্যার উপর আলোকপাত করা হবে। দ্বিতীয়ত, নিজের স্কুলে একটা সেমিনার আয়োজন করে অভিজ্ঞতাগুলো জানাতে হবে সবাইকে, শেষমেশ একটি প্রেজেন্টেশন বিচারকদের সামনে, অর্থাত্ এই কাজের অভিজ্ঞতা কতটুকু হলো আর তার ফলাফলই বা কতটা আশা জাগানিয়া! জিনিয়া সামনের দিনগুলোতে সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি জড়িত করতে চান নিজেকে। তার বিশ্বাস, আমাদের তরুণদের অংশগ্রহণই পারে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করতে। জিনিয়ারা যেদিন নেতৃত্বে আসবে, হয়তো সেদিনের বাংলাদেশ অনেক সুন্দর হবে। জাহিন ইশরাত চৌধুরী, সেরা দলের আরেক তুর্কী। তিনিও মনে করেন টিএসএসইপির মাধ্যমে দারুণ এক সুযোগ এসেছিল তাদের কাছে। বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে নিয়ে আমরা যা ভাবছি, সেটাই করে দেখানোর এই প্লাটফর্মে এগিয়ে থাকতে পেরে খুব পুলকিত তিনি। জাহিন মনে করেন, এই সময়ের শিশু-কিশোরদের অনেক বেশি ঘরে আবদ্ধ করে রাখা হয়, উন্মুক্ত চিন্তার বিকাশে আর সম্ভাবনার দুয়ার খোলা রাখতেই আমাদের উচিত তাদেরকে আরও বেশি বাইরের জগতের সাথে পরিচিত করানো। অর্থনীতি বিষয়টার দারুণ ভক্ত জাহিন অবসরে পছন্দ করেন বই পড়তে নয়তো সাঁতার কাটতে। ভবিষ্যতে দেশের বাইরে গিয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে চান, তবে অবশ্যই দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞানের মাধ্যমে কিছুটা হলেও পাশে দাঁড়াতে চান বঞ্ছিতদের। আজকের পূর্ণতা, জাহিন বা জিনিয়ারা যে স্বপ্ন দেখেছেন, তা অলীক নয়। প্রযুক্তির উত্কর্ষে আসলেই আমরা একদিন এগিয়ে যাব অনেক দূর। সেই দিনগুলোতে নেতৃত্ব দেবে আজকের তরুণরাই, সেই প্রত্যাশা।