বোতলজাত এলপি গ্যাস কিনে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা। একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিসমূহের সরবরাহকৃত গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার থেকে কিছু গ্যাস অন্য সিলিন্ডারে স্থানান্তর করে নিচ্ছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই চক্র অভিনব কায়দায় এভাবে গ্যাস চুরি করে আসছে। সাধারণত প্রতিটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারে সাড়ে ১২ কেজি ওজনের গ্যাস থাকার কথা। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক সিলিন্ডারে ভোক্তা সাধারণ ৮/৯ কেজির বেশি গ্যাস পান না। অনেক গৃহিণী জানিয়েছেন, অনেক সময় দেখা যায় অনেক সিলিন্ডারে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই গ্যাস ফুরিয়ে যায়।
জানা গেছে, এলপি গ্যাসের ব্যাপক চাহিদার কারণে এবং ক্রেতারা সিলিন্ডার তাত্ক্ষণিক ওজন করার সুযোগ না পাওয়ায় গ্যাস চুরির প্রবণতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘবদ্ধ চক্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার থেকে অভিনব কায়দায় গ্যাস চুরি করছে। চট্টগ্রামে গত দু’দিনে এরকম দুটি চক্রের আস্তানায় হানা দিয়ে বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডারসহ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নগরীর কর্ণফুলী থানাধীন কর্ণফুলী আবাসিক এলাকা এবং নগরীর অক্সিজেন এলাকায় অপর একটি আস্তানায় হানা দিয়ে গ্যাস চুরির সরঞ্জামাদিসহ সিলিন্ডার উদ্ধার ও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। সেখানে হাইপ্রেসার রেগুলেটর ও ব্যাকওয়ার্ম পাম্পের মাধ্যমে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস চুরি করা হচ্ছিল। জব্দকৃত সিলিন্ডারগুলোর মধ্যে বিপিসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি গ্যাস সিলিন্ডার যেমন রয়েছে, একইভাবে বেসরকারি কয়েকটি কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডারও রয়েছে।
অভিযানের দায়িত্বে থাকা সাব-ইন্সপেক্টর গোলাম কিবরিয়া জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন একটি গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। তার সাথে এক গ্যাস ডিলার জড়িত বলে তিনি স্বীকার করেছেন। নগরীর আরো কয়েকটি স্থানে এ ধরনের গ্যাস চুরির আস্তানা রয়েছে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
ডিলারদের বক্তব্য: দেশের বিভিন্ন এলাকার একাধিক সিলিন্ডার এলপি গ্যাস ডিলার জানান, চট্টগ্রাম ও সিলেটের কৈলাশটিলা থেকে তাদের নিকট পৌঁছা গ্যাস সিলিন্ডারের অধিকাংশে গ্যাস কম পাওয়া যায়। অথচ ক্রেতারা তাদের অভিযুক্ত করে থাকেন। খুলনা থেকে ফিরোজ নামে এক ডিলার জানান, বিপিসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন বিপণন কোম্পানিসমূহের নিকট থেকে প্রাপ্ত সিলিন্ডারে সাড়ে ১২ কেজি গ্যাস কখনো পাওয়া যায় না। তিনি জানান, বেসরকারি গ্যাস কোম্পানির সিলিন্ডারের মুখ সুরক্ষিতভাবে দেখা গেলেও সরকারি সিলিন্ডারসমূহের মুখের ছিপি তেমন দেখা যায় না। তিনি বলেন, প্রতিটি সিলিন্ডারে গ্যাস কম থাকায় খুলনা অঞ্চলের ডিলাররা ইতিমধ্যে বিপিসিকে অভিযোগ জানিয়েছে। অনেকে সিলেটের কৈলাশটিলার গ্যাস সিলিন্ডার গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ডিলারদের মতে, সংঘবদ্ধ অসাধু চক্রের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করা না হলে এ ব্যবসার প্রতি অনেকের অনীহা সৃষ্টি হবে।
