গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, কয়েকদিন ধরে গণজাগরণ মঞ্চের সামপ্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি মহল জল ঘোলা করছে। বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এতে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। মঞ্চের কর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছে। হামলার আশঙ্কা এখনও রয়েছে। মিছিলের উপর পুলিশের গাড়ি তুলে দিয়ে মঞ্চের কর্মীদের হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। সম্প্রতি মঞ্চের কর্মীদের উপর যে হামলা হয়েছে, তার জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। ডা. ইমরান গতকাল গণজাগরণ মঞ্চের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে তিনি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
গত ৩ এপ্রিল গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের দুইটি অংশ শাহবাগে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। মঞ্চের কর্মী নবেন্দু সাহা জয় ও শাকিল অরণ্যসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় দুই পক্ষ পরস্পরকে দায়ী করে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করে। ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন বিকালে দুই পক্ষই শাহবাগে সমাবেশ ডাকলে পুলিশের বাধায় তা অনুষ্ঠিত হয়নি। শাহবাগে পুলিশের লাঠিচার্জে ইমরান, মাহমুদুল হক মুন্সীসহ কয়েকজন আহত হন। আটক-গ্রেফতারও করা হয় ১০ জনকে।
গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে ইমরান অভিযোগ করেন, শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে, পুলিশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা নগণ্য হামলা করে আমাদের একাধিক কর্মীকে আহত করে। এই হামলার প্রতিকার চেয়ে মামলা করতে গেলেও মধ্যরাত পর্যন্ত আমাদের মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে আমাদের মামলা গ্রহণ করলেও একই সঙ্গে হামলাকারীদেরও আরেকটি মিথ্যা মামলা পুলিশ গ্রহণ করেছে। এই হামলার প্রতিবাদে পরদিন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে গেলে আমাদের উপর পুলিশ হামলা করেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পহেলা বৈশাখ সকাল ৯টায় যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা কর্তৃক নির্যাতিত মিরপুরের আলোকদী গ্রামের অধিবাসীদের সাথে বৈশাখী শুভেচ্ছা বিনিময়, ‘নববর্ষের অঙ্গীকার, নিপাত যাক রাজাকার’ স্লোগানে বিকাল ৩টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যা ৭টায় প্রদীপ প্রজ্বলন। ১৮ এপ্রিল মঞ্চর ৬ দফা বাস্তবায়নের দাবি এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারে দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মিছিল। শাহবাগে বিকাল ৩টায় সমাবেশ। এদিকে আজ বিকালে শাহবাগে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছে মঞ্চের আরেকটি অংশ।
