পরনে সস্তা দামের ছাপা শাড়ি, ঢিলেঢালা ব্লাউজ, শরীর যেন ক্লান্তিতে ঝুঁকে পড়েছে। মুখে বলিরেখার ছাপ স্পষ্ট, কঠিন জীবনযাপনের সাক্ষী তার হাতের দুটি তালু। পায়ের সস্তা কাদামাখা চপ্পল। মাথায় টেনে বাঁধা খোঁপা। ভারতের সাংবাদিকরা এভাবেই তাকে খুঁজে পেয়েছে। গুজরাটের রাজসোনা গ্রামের কোনও মহিলার সঙ্গেই পার্থক্য নেই তার। কিন্তু এবার বোধহয় পার্থক্য রচিত হতে চলেছে। তার স্বামী চলতি লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী।
তিনি যশোদাবেন চিমনলাল মোদী। বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদীর বহুল আলোচিত স্ত্রী। মোদীর হলফনামার উদ্ধৃতি দিয়ে বৃহস্পতিবার ভারতের মিডিয়াতে মোদীর স্ত্রীর খবর প্রকাশ হবার গতকাল সেদেশে এই নারী ছিলেন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। এতদিন বিভিন্ন মিডিয়াতে মোদীর স্ত্রীর খবর প্রকাশ হলেও মোদী নিজে কখনো স্ত্রীর অস্তিত্ব স্বীকার না করায় তখন সেই খবর সাড়া ফেলেনি।
গোধরা ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের পর যশোদাবেনের কথা প্রথম শোনা যায়। তার আগে কঠোর নজরবন্দীতেই জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। যদিও গ্রামের কেউই প্রথমে বিশ্বাস করতে চাননি তার গল্প। যশোদাবেনের ঘনিষ্ঠরা বলতেন, গুজরাটের মেহসানা জেলায় ভদানগর গ্রামে মোদীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল যশোদাবেনের। তখম তিনি ছিলেন অষ্টাদশী। কথিত আছে, যশোদাবেন নিজেকে মোদীর যোগ্য মনে করতেন না, নিজেকে দেখতে ‘অসুন্দর’ মনে করতেন। একারণেই নিজেকে অন্তরাল করে রাখতেন। ছবি তুলতে কিংবা ভিডিও করতে দিতেন না। যেকারণে তার ভালো কোনো ছবিও সাংবাদিকরা সংগ্রহ করতে পারেনি। মোদীর স্ত্রীর পরিচয়ে সেই ছবি ছাপা হলে পাছে মোদীর সম্মানহানি হয়!
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বিয়ের কিছুদিন পরই বাপের বাড়ি চলে যান যশোদা। ১৯৭২ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর প্রাথমিক শিক্ষার ট্রেনিং নিয়ে আহমেদাবাদে ৩ মাস শিক্ষকতা করেছিলেন। প্রথমে একটি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করে পরে একটি পঞ্চায়েত স্কুলে ১২ বছর পড়ান তিনি। এলাকার হিন্দু মুসলমান সবার খুবই প্রিয়ভাজন মোদীপত্নি।
ভালো উপার্জন করলেও দুঃস্থদের মতো সাধাসিধা জীবনযাপন করেন তিনি। মাত্র ১৫০ রুপি দিয়ে টিনের চালার একশো বর্গফুটের একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন। সব কাজই করেন নিজের হাতে। এইভাবেই দিনের পর দিন অনাড়ম্বর ভাবে কেটে যায় তার জীবন। নিজের কৃচ্ছ সাধনের ফল কোনওদিন পাবেন কিনা জানতে বহু জ্যোতিষির কাছেও গিয়েছেন তিনি! সকলেই বলেছেন এক কথা। একদিন তাকে ফিরিয়ে নেবেন তার হাই প্রোফাইল স্বামী। সেই আশ্বাসেই এতদিন জোরের সঙ্গে বেঁচেছেন তিনি। আর সেই বিশ্বাসেই হয়তো প্রথমবার সর্বসমক্ষে তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন মোদী! যশোদাবেনের ঘনিষ্ট আত্মীয়রা জানিয়েছেন মোদী যাতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন সেই প্রার্থনায় গত কয়েক মাস ধরে ভাত খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। দিনে মাত্র একবার খাচ্ছেন তিনি।
এখন মিডিয়ার সব স্পট লাইট পড়েছে তার দিকে। নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন তিনিই। কিন্তু যশোদাবেনকে নাকি কোথাও খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ বলছে ৪০ জন মহিলার সঙ্গে তিনি তীর্থ দর্শনে বেরিয়েছেন। আসল ঘটনা যাই হোক, হঠাত্ পাওয়া স্পটলাইটে কিছুটা ঘাড়বে গেছেন এটা নিশ্চিত।
