ভারতের চলতি লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, আইনজীবী এবং শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা। এমনিক ব্রিটেনের মানবাধিকার কর্মী এবং আইন-জীবীরাও এদের সঙ্গে স্বাক্ষর করেছেন। কট্টর হিন্দুত্ববাদী ও বিতর্কিত নেতা নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনে জয়ী হলে ভারতের জন্য ‘অশুভ’ হবে বলে তারা লিখেছেন। দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় এক খোলা চিঠিতে তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
ভারতের বিভিন্নি নির্বাচনী জরিপে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। বৃহস্পতিবার লেখা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভারতের গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না রেখেই বলা যায়, নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে ২০০২ সালে গুজরাটে যে ভয়াবহ এবং নৃশংস ঘটনা ঘটেছিল সেটা আমাদের স্মরণ করা অতীব জরুরি। ওই ঘটনায় সংখ্যালঘু মুসলিমরা লুটপাট, হত্যা এবং সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন। এতে শিশু ও নারীসহ ২ হাজার মানুষ নিহত হন। বিশেষ করে নারীরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হন এবং নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সরিয়ে নিলেও যথেষ্ট ছিল না।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মোদীর সরকারের কিছু কর্মকর্তার এখনো বিচার চলছে। তবে মোদী বরাবরই ওই ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে আসছেন। তিনি এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দু:খ পর্যন্ত প্রকাশ করেননি। মোদী ওই সহিংস ঘটনা দমাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। আর তাই এই ব্যর্থতা নৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভারতের সংবিধান বহু পথ ও মতামতের ভিত্তিতে সংখ্যালঘুদের পূর্ণ নিরাপত্তার অঙ্গিকার করে রচিত হয়েছে। এমনকি পৃথিবীর বহু সংবিধানে বহুত্ববাদকে গুরুত্ব দিয়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে উল্লেখ আছে। তাদের পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন, শিল্পী অনিশ কাপুর, হার্বাড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর হোবি কে ভাবাহ, নোবেল বিজয়ী সালমান রুশদি, চলচ্চিত্র পরিচালক দীপা মেহতা, শিল্পী দায়ানিতা সিং, ভিভান সুন্দরম, ব্যারিস্টার ডেমি হেলেনা কেনেডি, আইনজীবী ইমরান খান, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সংসদ সদস্য মাইক উড, জন ম্যকডোনেল প্রমুখ। বিজেপি নেতা রবিশঙ্কও প্রাসাদ এই লেখার সমালোচনা করে বলেছেন, মন্তব্যগুলো বিদ্বেষপূর্ণ এবং অনেক আগে থেকেই তারা মোদীর বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করে আসছেন। তাদের সমালোচনা সত্ত্বেও বিজেপি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বড় একটি দলে পরিণত হয়েছে।
