প্রশ্নপত্র ফাঁস :দায় কার?

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ২১:০০
বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ক্রমাগত ফাঁস হয়েই চলেছে। পাবলিক পরীক্ষা থেকে নিয়োগ পরীক্ষা সব। এমনকি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা পর্যন্ত। কিছুতেই এ অবস্থা দূর করা যাচ্ছে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে তদন্তের জন্য প্রতিবারই শক্তিশালী কমিটি হয়। নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয়। কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট আর জনসমক্ষে প্রকাশিত হয় না। অভিযুক্তদের ব্যাপারে গৃহীত ব্যবস্থাও থেকে যায় অন্তরালে। প্রকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদৌ ব্যবস্থা নেওয়া হয় কিনা তাও সন্দেহাতীত নয়। গত নভেম্বরে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে—শিশুদের শাস্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এরপর জেএসসি, তার পর এসএসসি, সর্বশেষ এইচএসসির প্রশ্ন ফাঁস। বোর্ড এবং শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন সময় প্রশ্ন ফাঁসের এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। সর্বশেষ জেএসসি এবং এসএসসি-তেও ইংরেজি এবং গণিতের প্রশ্ন হুবহু ফাঁস হলেও বোর্ড কর্তৃপক্ষ তদন্তে নাকি তার প্রমাণ পাননি। কিন্তু শহর থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুঠোফোনের এসএমএস এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে অধিকাংশ পরীক্ষার্থীই হুবহু প্রশ্ন পেয়েছিল। ‘বন্ধ হচ্ছে না প্রশ্ন ফাঁস’ শিরোনামে দৈনিক ইত্তেফাক গত ১১ এপ্রিল অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করে। একই দিন আরেকটি দৈনিকের প্রধান শিরোনাম ছিল— “একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস, তদন্ত কমিটি করেই দায়িত্ব শেষ!” একইভাবে ওইদিন দেশের অন্যান্য দৈনিকও একই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। প্রতিবেদনগুলোতে এ ধরনের প্রশ্ন ফাঁসে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। উচ্চশিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে দেশে এক সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। এর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি বাদে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান যাচ্ছেতাই। কয়েক বছর আগে তিনটি ক্যাটাগরি অনুসারে ট্রাফিক সিগনালের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন রঙে বিশেষায়িত করা হয়েছিল। ওই পর্যন্তই। এরপর শর্ত পূরণে ব্যর্থ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যাপারে আর তেমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। শিক্ষার প্রকৃত মানোন্নয়ন নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার বাড়লেও শিক্ষার মান কতোটা বেড়েছে তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। অন্যান্য পেশার লোকেরা মাসের শুরুতে বেতন পেলেও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হতভাগা শিক্ষক-কর্মচারীদের কপালে ২০ তারিখের আগে বেতন জোটে না। গত কয়েক বছরে তাদের সুযোগ-সুবিধারও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেনি। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী কি এসব বিষয়ের ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারেন? তিনি অপেক্ষাকৃত যোগ্য মন্ত্রীদের কাতারে নিজেকে আসীন করায় তাঁর কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু মানুষের সে প্রত্যাশা তিনি পূরণ করতে সফল হয়েছেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকতেই পারে। ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো এরূপ ঘটনা বারবার না একবার ঘটলেও শিক্ষামন্ত্রী হয়তো পদত্যাগ করতেন। ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোথাও বড় ধরনের রেল দুর্ঘটনা ঘটলে রেলমন্ত্রীর পদত্যাগের নজির আছে। যদিও ভারত বিশ্বের সর্ববৃহত্ গণতান্ত্রিক দেশ। তাদের দেশের মন্ত্রীদের দায়িত্ব বোধহয় একটু বেশিই। আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী কেন সে পথে হাঁটবেন? ব্যর্থতার দায় তিনি কেন মাথা পেতে নেবেন? আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট পৃথক, সংস্কৃতিও আলাদা। এখানে নৈতিক দায়বদ্ধতা একটু ভিন্ন। ফরিদপুর