আসুক ফিরে ছাত্র রাজনীতির সোনালী অতীত

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ২১:০১
চলতে ফিরতে অনেকের সঙ্গেই পরিচয় হয়, অনেকের সঙ্গেই গড়ে ওঠে সম্পর্ক। এমনি করেই আমার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে প্রিয় ক্যাম্পাস বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। অনেক কিছু থেকে দূরে থাকার পরও এই ক্যাম্পাসের প্রতি আমার ভালোবাসার কোনো কমতি আমার চোখে পড়ে না। ক্যাম্পাসের ভালো কিছুতে যেমন আমার মনে এক অন্য রকম ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়, ঠিক তেমনি খারাপ কিছুতে আপনা থেকেই মনটা কেঁদে ওঠে। যেমন কেঁদে উঠেছিল এক সহপাঠীর মৃত্যুতে। মৃত্যু মানব জীবনের এক অতি সাধারণ পরিণতি। এই পরিণতির দায় কেউ এড়াতে পারে না এবং এড়াতে পারবেও না। কিন্তু এই মৃত্যু যখন হয় আমারই অন্য একজন সহপাঠীর হাতে তুচ্ছ কোনো কারণে তা মেনে নিতে সবারই কষ্ট হয়। শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্রের যেখানে নিজেকে সব দিক দিয়ে একজন দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কথা তা না হয়ে আমরা দেখছি যত সব বর্বরতা আর জংলি মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। আমাদের কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় শিক্ষার সংজ্ঞা কী আমরা অনেকেই জন মিল্টনের একটি উক্তি আওড়াই— Education is the harmonious development of body, mind and soul. এটা হয়তোবা শুধু জানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে, বাস্তবে এর প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া খুবই দুষ্কর। শিক্ষার উদ্দেশ্য হিসেবে আমরা অনেকেই বলে থাকি নিজের আচরণের পরিবর্তনের কথা। বর্তমান সময়ে অসুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতি ও ক্যাম্পাস প্রশাসনের দলীয় লেজুড়বৃত্তি সুন্দর পরিবেশ তৈরিতে এক মস্ত বড় প্রাচীর রূপে আবির্ভূত হয়েছে যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করুক—এই প্রত্যাশা সবার থাকলেও সুন্দর পরিবেশের বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ভাইরাসরূপী এই কীটদের তাড়ানোর জন্য প্রতিকারমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সেদিন ক্লাসে আমার এক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক বললেন আশির দশকের ছাত্র রাজনীতির সোনালি ইতিহাসের কথা। সেই আশির দশকে যা সম্ভব ছিল একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমাদের কী এমন হলো যে আমরা প্রতিনিয়ত বর্বরতার পরিচয় দিচ্ছি। আজ যে ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে হয়তোবা কয়েকদিন আমরা অনেকেই অনেক ধরনের কথা বলবো, মিডিয়াময় এই নিয়ে মাতামাতি চলবে বেশ কয়েকদিন তারপরেই সব হাওয়ায় মিশে যাবে। এ প্রসঙ্গে রশোমন-এর একটি কথা মনে পড়ছে। তিনি বলেছিলেন—“এমন কেউ কি আছে যে আসলেই ভালো বা মহত্? হয়তো দয়া বা মহত্ত্ব নিছক ভান। আসলে মানুষ খারাপ বিষয়গুলোকে ভুলে যেতে চায় ও কল্পনায় তৈরি ভালো কিছুকে বিশ্বাস করতে চায়। এ পথে সেটা সহজতর।” যতদিন দয়া মায়া, ভালোবাসা, নৈতিকতা নিছক ভানের ছোঁয়ায় প্রাণ খুঁজে পাবে ততদিন আমাদের উন্নতি হবে না বলে আমার মনে হয়। আমরা সবাই মুখে অনেক কথা বললেও বাস্তবে ঠিক তাঁর উলটো পথটাকেই বেছে নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। হায়েনা হয়ে নয়, বর্বর জাতি হিসেবে নয় আমরা বীরের জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। ভালো ও মন্দের বিচার করার ক্ষমতাই মানব জাতিকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে। নীতি ও নৈতিকতার কথা শুধু মুখে বললেই হবে না নৈতিকতার দিক দিয়ে যারা উন্নতি করার চেষ্টা করে না পবিত্র কুরআন তাদের সম্পর্কে বলছে—‘তারা পশুর ন্যায় বরং পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট’। বর্তমানে আমাদের চারপাশ মানুষরূপী পশুতে ভরে গেছে। এই মানুষরূপী পশুগুলোকে হয় সত্যিকারের মানুষ রূপে গড়ে তুলতে হবে, নয় এদেরকে বিতাড়িত করতে হবে—তবেই আসবে শান্তি। চারপাশের খারাপ পরিবেশ এখন আমাদের ভালো কিছু প্রত্যাশা করা থেকে বিরত রাখে। কিন্তু আমার মতো আশাবাদী মানুষ মাত্রই বিশ্বাস করে—দুঃখের পরে যেমন সুখ আসে ঠিক তেমনি খারাপের অবসানে ভালো কিছুর উদয় হবে। আমার এক ভাই প্রায় বলেন— ‘Let’s work together for better tomorrow’। আমরাই পারি আমাদের এ দেশটাকে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোকে সুন্দর করতে। দরকার শুধু সদিচ্ছার আর শক্ত পদক্ষেপের। আমাদের পদক্ষেপই পারে পরবর্তী কোনো সাদকে অস্বাভাবিক নিয়তি বরণ করা থেকে রক্ষা করতে। ফিরে আসুক ছাত্র রাজনীতির সোনালি অতীত, দূর হোক অমানিশা, আসুক ফিরে সুদিন—এই কামনাই করি প্রতিদিন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়