পারিবারিক কলহে পিতার হাতে পুত্র খুন

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৩০
রাজধানীর রামপুরায় ঘুমন্ত ছেলেকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে পাষণ্ড বাবা। বুধবার ভোর ৫ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মোহাম্মদ আলম (১৯)। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে বাবা দুলাল মিয়া ছেলেকে খুন করে। ঘটনার পর থেকে দুলাল পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে দুলাল নামে এক ব্যক্তি বটি দিয়ে গলা কেটে আত্মহত্যা করেছে বলে তার পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছে। রামপুরা থানা পুলিশ জানায়, আলম তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রামপুরার ২১/১, বাগিচারটেকের বাড়িতে বসবাস করতেন। মঙ্গলবার রাতে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আলমের সঙ্গে তার বাবা দুলালের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে বাসার একটি কক্ষে আলম এবং তার স্ত্রী নাদিয়া ঘুমিয়ে পড়েন। পাশের কক্ষে তার বাবা দুলাল মিয়া ঘুমাতে যান। ভোররাত ৪ টার দিকে বাবা দুলাল মিয়া একটি রড দিয়ে ঘুমন্ত আলমকে পেটাতে থাকেন। রডের আঘাতে তার মাথা ফেটে রক্ত পড়তে থাকে। আলমের চিত্কারে নাদিয়ার ঘুম ভেঙ্গে গেলে সেও চিত্কার করে প্রতিবেশীদের সহযোগিতা চান। এসময় দুলাল মিয়া পালিয়ে যান। ভোর ৫ টার দিকে আলমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আলমের স্ত্রী নাদিয়া জানান, আট মাস আগে আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। আলমের বাবা এ বিয়ে মেনে নেয়নি। এ নিয়ে আলমের সঙ্গে তার বাবার প্রায়ই বাকবিতন্ডা হতো। আলম পেশায় বাস চালক। তার বাবা সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক। রামপুরা থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, দুলাল মিয়ার আপত্তি উপেক্ষা করে বিয়ে করার কারণে আলমের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন তিনি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ চলছিল। এর জের ধরে আলমকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। দুলাল মিয়াকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মতিঝিলে গলাকেটে এক জনের মৃত্যু: রাজধানীর মতিঝিল এজিবি কলোনির একটি বাসা থেকে মঙ্গলবার রাতে গলাকাটা অবস্থায় মোহাম্মদ দুলাল (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে তার ছেলে নাজমুল। বুধবার সকালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় দুলালের মৃত্যু হয়। দুলালের ছেলে নাজমুল দাবি করেছেন, তার বাবা গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। মতিঝিল থানা পুলিশ জানায়, কিভাবে দুলালের গলা কেটেছে এ ব্যাপারে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিহতের ছেলে নাজমুল জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে এ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। যন্ত্রণা সইতে না পেরে মাঝে মধ্যেই তিনি আত্মহত্যা করার কথা বলতেন। এদিকে যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় ওমর আলী ও রাসেল নামে দুই যুবককে ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মো. আসলাম জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন ওমর আলী ও রাসেল ছিনতাই করার সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।