টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে জুয়াড়ি অভিযোগে গ্রেফতার ভারতীয় নাগরিক অতনু দত্তকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার তার একদিনের রিমান্ড শেষে পুলিশ ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
গত রবিবার রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের গ্র্যান্ড প্রিন্স হোটেল থেকে অতনু দত্তকে পুলিশ দ্বিতীয় দফা গ্রেফতার করে। এর আগে ৩ এপ্রিল বেনাপোল থেকে আটকের পর অতনুর বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৬৬ ধারায় র্যাব মামলা করে। ঐ মামলায় ৬ এপ্রিল তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে জামিন দেয়। অতনু দত্ত ক্রিকেটের একটি আন্তর্জাতিক জুয়াড়িচক্রের সদস্য হয়ে গত ১৫ মার্চ বাংলাদেশে আসেন। তিনি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রতিটি খেলা ঢাকা ও চট্টগ্রামের স্টেডিয়ামে বসে দেখেছেন। স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে মাঠ থেকে ক্রিকেট খেলা সম্প্রচার করার পর এই দৃশ্য অবস্থাভেদে ডিশ সংযোগের মাধ্যমে টেলিভিশনে দৃশ্যমান হয় অন্তত ১০ সেকেন্ড থেকে ২০ সেকেন্ড পর। এই সময়ের মধ্যে মাঠ থেকে মোবাইল ফোনে বাজিকরদের কাছে তথ্য দেয়া হয়। কলকাতা, মুম্বাই ও দুবাইয়ে বিভিন্ন জুয়াড় ক্লাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাঠ থেকে আগাম তথ্য দিয়ে দেন। এই তথ্য পাচার করে কলকাতার জুয়াড়ি চক্রের প্রধান কুনাল দাগা কোটি ডলার আয় করেছেন বলে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন। ক্রিকেট জুয়াড়িদের তথ্য দিতে গিয়ে তার সাথে আইসিসি’র দুর্নীতি বিরোধী ও নিরাপত্তা ইউনিট আকসু’র আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক ধরমবীর সিং যাদবের সঙ্গে পরিচয় হয়। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রতিটি খেলার টিকিট কিভাবে পেলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে অতনু পুলিশকে জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা আছে। তাদের মাধ্যমেই তিনি খেলার টিকিট জোগাড় করেছেন।
