আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দুই কোটি ৩৮ লাখ টাকা ফেরত চেয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ‘এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রিপেয়ার্ডনেস এন্ড রেসপন্স প্রকল্পের’ আওতায় কেনাকাটার তিনটি প্যাকেজকে ‘মিস প্রক্রিউরমেন্ট’ ঘোষণা করার পর টাকা ফেরত দেয়ার এই সময়সীমা বেঁধে দিলো সংস্থাটি।
প্রকল্পটি ২০১২ সালের ডিসেম্বর নাগাদ শেষ হয়। প্রায় ১৪০ কোটি টাকার (এক কোটি ৮০ লাখ ডলার) প্রকল্পটিতে অন্য বিষয়গুলো সন্তোষজনক হলেও বিশ্বব্যাংকের দাবি অনুযায়ী তিনটি প্যাকেজে কেনাকাটার বিধি যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। এরকম একটি প্যাকেজের আওতায় ১০০ ‘ক্লোন’ কম্পিউটার কেনা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অর্থ ফেরত চাওয়ার বিষয়টি সুরাহা করতে সম্প্রতি মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের অনুরোধ জানায়। সূত্র আরো জানায়, ইতিমধ্যে এই অনিয়মের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অধিদফতরকে নির্দেশ দিয়েছে। তদন্ত কমিটির মত প্রকাশ করেছে, ক্লোন কম্পিউটার সরবরাহ করা হলেও স্পেসিফিকেশনের দিক থেকে তা সন্তোষজনক ও মানসম্মত। বিষয়টির সুরাহা করার জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) অনুরোধ করা হয়েছে; কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইআরডির একজন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের কাজ মানসম্পন্ন হলেও বিশ্বব্যাংকের ক্রয় সংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে পালিত না হলে এ ধরনের অভিযোগ তৈরি হতে পারে।
সম্প্রতি মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে বিশ্বব্যাংকের দাবি অনুয়ায়ী তিন লাখ পাঁচ হাজার ১৩৪ ডলার বা প্রায় দুই কোটি ৩৮ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী দাবি করেন, প্রকল্পটির জি-৮.৪, ডব্লিউ-৫ এবং ডব্লিউ-৭ নং প্যাকেজের কেনাকাটা কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংক অনিয়মের অভিযোগ তোলে। এসব প্যাকেজের মাধ্যমে দুইটি ভবন নির্মাণ ও ১০০ ক্লোন কম্পিউটার কেনা হয়। চিঠিতে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, এসব প্যাকেজের ভবন নির্মাণ ও পণ্যের গুণগত মান নিয়ে বিশ্বব্যাংকের কোনো অভিযোগ নেই। এমনকি এসব নির্মাণ ও ক্রয় কাজ মানসম্পন্ন হয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি; কিন্তু এসব কার্যক্রমে ক্রয় নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে উল্লেখিত পরিমাণ অর্থ ফেরত দেয়ার দাবি জানায় তারা। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ অর্থ ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ওই অর্থ পরিশোধের অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে।
