ঢাকার আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ চার ছাত্রের মধ্যে দুজনকে পাওয়া গেছে। তবে লাশ হিসাবেই তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালের পর বিভিন্ন সময় সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম পাশে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা লাশগুলো শনাক্ত করেন। বুধবার সকালের দিকে সেন্ট মার্টিনের উত্তর-পূর্ব সৈকতের আধা কিলোমিটার দূরে লাশ দুটি পাওয়া যায়। এর মধ্যে সকাল ৮-৫০ মিনিটে একজনের ও ১০-৫০ মিনিটে অপরজনের লাশ পাওয়া যায়।
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি আব্দুর রহমান জানান, গতকাল দুজনের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও গত তিনদিন ধরে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে সাগরে গোসল করতে নেমে ভেসে যাওয়া ঢাকার আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ ছাত্র সাব্বির ও উদয়ের হদিস এখনো মেলেনি। তাদের খোঁজে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছে গেছেন তাদের স্বজনরা। এখন শুধু লাশের অপেক্ষা। গতকাল লাশ পাওয়া গেছে শাহরিয়ার ইসলাম নোমান ও গোলাম রহমান বাপ্পীর।
ঢাকা থেকে আসা নিখোঁজ সাব্বির হাসানের চাচাতো ভাই আসিবুর রহমান বললেন, ‘সাব্বির আমার একমাত্র ভাই। এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মনে হয় আমরা সবাই মরে গেছি। খবর শুনে তার মা ও একমাত্র বোন অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তার পিতা হাসানুর রহমান পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন, এখন অবসরে রয়েছেন। সাব্বির একজন ভাল ফটোগ্রাফার ছিলেন। একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিতে আলোকচিত্র গ্রাহক হিসেবে কাজ করতেন। বিদেশে ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করার কথা রয়েছে। বুধবার সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে সকালে নিখোঁজ ছাত্র শাহরিয়ার ইসলাম নোমান ও এসএম গোলাম রহিম বাপ্পীর মরদেহ উদ্ধার করে। এর মধ্যে আমার ভাইয়ের মরদেহ নেই।
ঢাকা থেকে আসা গোলাম রহিম বাপ্পীর মামা আশরাফুল হাবিব শাহারিয়ার জানান, আমাদের মাঝে বাপ্পী আর নেই এটা বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার ভাগ্নের ইঞ্জিনিয়ার হওয়া হল না।
সেন্ট মার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার শহিদ আল আহসান জানান, নিখোঁজ চারজন ছাত্রের মধ্যে বুধবার সকালে দু’জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। উদ্ধারকৃত মরদেহ টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং নিখোঁজ সাব্বির ও উদয়ের খোঁজে সাগরে তত্পর রয়েছে নৌবাহিনীর ডুবুরিদল, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। দুটি টানা জাল, ১০টি স্পিডবোট ও ছয়টি ট্রলারের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ চলছে।
