ইতিহাসকে যারা বিকৃত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটি দল স্বাধীনতার ইতিহাস এমনকি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করে কথা বলছে। এসব বিষয়কে পাগলের প্রলাপ বলে উড়িয়ে দিলে ষড়যন্ত্রকারীরা নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ পাবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের শাস্তি হওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিএনপি নেতা ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিবাদে বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চার দশক পর এসব ‘প্রলাপ’ বকে তারেক বা তার দল কোন সুবিধা পেতে চাচ্ছে কিনা সেটা দেখবে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এসব ‘প্রলাপে’র কারণে নতুন প্রজন্ম যেন বিভ্রান্তিতে না পড়ে সেটা দেখতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের উপঅধিনায়ক এ আর ভাইস মার্শাল এ. কে খন্দকার বীর উত্তম তরুণ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানানোর আহবান জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হলে তা হবে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত। তাই এখনই ইতিহাস বিকৃতি ঠেকাতে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।
স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের প্রণেতা ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল-ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিতর্কের কোনও সুযোগ নেই। এখন যা হচ্ছে তা দেশের মানুষের ইতিহাস সচেতনতার অভাবে রয়েছে। তিনি প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার আহবান জানান।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ’৭১ সালে এপ্রিলের শুরু থেকে মুজিবনগরে প্রথম সরকার গঠনের ধারাবাহিকতা বর্ণনা করে ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি মেজর জেনারেল কে. এম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ঘোষণাপত্র বঙ্গবন্ধু নিজেই পাঠ করেছিলেন তত্কালীন নির্দিষ্ট কিছু রেডিও ব্যান্ডে। এ কারণেই ২৬ মার্চ ইয়াহিয়া খান সামরিক শাসন জারি করার আগ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়ার সময় বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু অখন্ড পাকিস্তানের জন্যে হুমকিস্বরূপ’। একই ঘোষণাপত্র কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তত্কালীন আওয়ামী নেতা এম এ হান্নান তিনবার পড়েছিলেন। পরে বোয়ালখালী এলাকা থেকে মেজর জিয়াকে বেতার কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে এই ঘোষণাপত্র পাঠ করানো হয়। জিয়া এই ইতিহাস জানতেন বলেই তিনি জীবিত অবস্থায় কোনদিন নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বা দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বলে দাবি করেননি।
স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী বলেন, স্বাধীন দেশে বাস করে যারা বঙ্গবন্ধুকে মানে না তারাতো এ দেশের নাগরিক হওয়ারই যোগ্য নয়। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী, সাবেক আইজিপি মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আলম, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী। সূচনা বক্তব্য রাখেন ফোরামের মহাসচিব হারম্নন হাবীব। আরো উপস্থিত ছিলেন সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশারফের কন্যা মাহজাবীন খালেদ এমপিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের তথ্য ও প্রচার বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধার কন্যা কেয়া চৌধুরী এমপি।
