‘শেয়ারড ভবনে কারখানার সাড়ে ৮শ’ কোটি টাকার অর্ডার প্রত্যাহার’

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৪৭
গত ছয় মাসে শেয়ারড ভবনে (গার্মেন্টস কারখানার পাশাপাশি অন্য কার্যক্রম চলে এমন ভবন) অবস্থিত কারখানাগুলোর প্রায় ১১ কোটি মার্কিন ডলারের (প্রায় ৮৫৮ কোটি টাকা) সমপরিমাণ অর্ডার ক্রেতারা প্রত্যাহার করেছে বলে দাবি করেছেন বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রাক বাজেট আলোচনায় উপস্থিত হয়ে এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, শেয়ারড ভবনকে দ্রুত স্থানান্তরের লক্ষ্যে প্রি-ফেব্রিকেটেড ভবন (স্টিলের কাঠামোয় নির্মিত ভবন) নির্মাণ করতে হবে। এ ধরনের ভবনের সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় আমদানি পণ্যের শুল্ক-কর আসছে বাজেটে মওকুফ করার দাবি জানান তিনি। বাজেট সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে পরামর্শমূলক আলোচনার অংশ হিসেবে এনবিআর গতকাল বৃহস্পতিবার বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত খাতের সঙ্গে আলোচনায় বসে। এ সময় গার্মেন্টস, বস্ত্র খাত, পাট খাতসহ বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত রপ্তানি খাতের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, দেশের মোট গার্মেন্টস কারখানার প্রায় ৪০ শতাংশই শেয়ারড ভবনে অবস্থিত। এসব কারখানায় প্রায় ১৫ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। এসব কারখানায় অর্ডার বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকরা বেকার হয়ে যাবে। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, প্রি-ফেব্রিকেটেড ভবনের সরঞ্জাম আমদানির উপর বর্তমানে ৬০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ রয়েছে। এছাড়া অগ্নি ও ভবনের নিরাপত্তা সামগ্রীর উপরও বড় অঙ্কের শুল্ক বিদ্যমান রয়েছে। এসব শুল্ক-কর প্রত্যাহার করার দাবি জানান তিনি। বিজিএমইএ’র প্রস্তাবে প্রস্তাবিত গার্মেন্টস পল্লীর নির্মাণ সামগ্রী আমদানিতে শুল্ক-কর মওকুফ করা, আমদানিকৃত মূলধনী যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে দাখিলকৃত অঙ্গীকারনামা বিজিএমইএ’র প্রত্যয়নের ভিত্তিতে অবমুক্ত করা, রপ্তানির উেস আয়কর কর্তনের বিধান অব্যাহত রেখে কাঁচামাল সরবরাহসহ অন্যান্য পর্যায়ে উেস আয়কর কর্তনের বিধান বাতিল করা, বহুতল ভবনকে আয়করমুক্ত রাখার বিধান রাজধানীর বাইরে সাভার, নারায়ণগঞ্জ, টঙ্গী, গাজীপুর এলাকায় সম্প্রসারণ করার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া পোশাক রপ্তানিকারকরা এই খাতে ব্যবহূত প্রাকৃতিক গ্যাস, বিদ্যুত্ ও পানির বিলের উপর শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতি চেয়েছে। রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবা খাতের উপর থেকেও ভ্যাট প্রত্যাহার করার প্রস্তাব দেয়া হয়। এছাড়া রপ্তানি মূল্যের উপর ২ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দেয়ারও প্রস্তাব করা হয় বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন এই খাতের ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউপি) ইস্যুর ক্ষমতা তাদের অ্যাসোসিয়েশনকে দেয়ার প্রস্তাব করেন। এছাড়া নগদ সহায়তার উপর কর অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব দেন। পাট খাতের তিনটি সংগঠন বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ), বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ) পাট খাতের বর্তমান দুরবস্থা তুলে ধরে এই খাতের উপর থেকে সব ধরনের শুল্ক-কর প্রত্যাহার এবং রপ্তানিতে উেস কর বিদ্যমান দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেন। এনবিআর সদস্য ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ম্যানুফেকরাচার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএএমইএ) সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী, এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি), প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফেকচারার এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ (বিপিজিএমইএ) আরো কয়েকটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেন।