ভালো চাকরি দেয়ার কথা। এ জন্য দালালকে ২ লাখ করে টাকা দেয়ার চুক্তিও করেছিল ওরা। কিন্তু চাকরিতো মেলেইনি উল্টো দীর্ঘদিন বন্দী থেকে নির্যাতিত হতে হয়েছে। এরকম ১২ জনকে ইরান থেকে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা-সিআইডি। আরো ৪২ জন ফেরার অপেক্ষায় আছেন। তাদের যেকোনো সময় ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডি কর্মকর্তারা। এই ১২ জনকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। গতকাল বিকালে সিআইডি কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম। সিআইডির এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে ‘রাইটস যশোর’ নামে একটি বেসরকারি সংগঠন।
আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে তাদের গ্রিসে নেয়ার কথা বলে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা করে চুক্তি করা হয়। একইসঙ্গে বলা হয়, নগদ টাকা দিতে হবে না। গ্রিসে আয় করে টাকা পরিশোধ করলেই চলবে। পরে তাদের ইরানে আটকে রেখে বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে তাদের দিয়ে ফোন করিয়ে টাকা দাবি করা হয়। নির্যাতনের পর মোবাইল ফোনেই শোনানো হয় কান্নার শব্দ। এভাবে দিনের পর দিন তাদের আটকে রেখে চলে অমানবিক নির্যাতন।
ফেনীর সোনাগাজীর সজিব চন্দ্র নাথ সিআইডি অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৯ সাল থেকে তিনি দুবাইতে ছিলেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুবাই থেকে গ্রিসে নেয়ার কথা বলে দালালরা তাকে ইরানে নিয়ে যায়। সেখানে একটি রুমে আটকে রেখে তাকে দিয়ে বাড়িতে ফোন করানো হয়। স্বজনদের থেকে দাবি করা হয় ছয় লাখ টাকা। কিন্তু সজিবের পরিবার থেকে টাকা দিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়। এরপর চাবুক ও হাতুড়ি দিয়ে দিনের পর দিন নির্মমভাবে নির্যাতন করে ওরা। তার সঙ্গে একই কক্ষে নির্যাতনের শিকার ছিল আরো ২৩ জন।
আটকে থাকা নাগরিকদের দেশে আনার কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিআইডির এডিশনাল ডিআইজি শাহ আলম ও রাইটস যশোরের পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক।
