হাঁচির গতি ১০০ মাইল!
হাঁচি-কাশি আমরা কমবেশি সকলেই দিয়ে থাকি। হাঁচি বের হার সময় প্রতি ঘণ্টায় এর গতি হতে পারে সর্বোচ্চ ১০০ মাইল বা ১৬১ কিলোমিটার। কিন্তু হাঁচির এই গতি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি এমনকি একটি হাঁচির থেকে আরেকটি হাঁচির গতি স্বতন্ত্র হতে পারে। প্রতি ঘণ্টায় এর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গতি হতে পারে যথাক্রমে ৬৪ কিলোমিটার ও ১৬১ কিলোমিটার (৪০ এবং ১০০ মাইল)।
নীল পাহাড়ের নীল রহস্য
সাধারণত পাহাড়-পর্বতগুলোকে আমরা সবুজ রঙে কিংবা সাদা বরফে আচ্ছাদিত থাকতে দেখি। কিন্তু পাহাড় কি নীল হতে পারে? পারে, এবং এর জলজ্যান্ত প্রমাণ অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসয়ে। সে পাহাড়গুলোকে দেখলে যে কারোরই মনে হবে কেউ বুঝি একরাশ নীল ছড়িয়ে দিয়ে গেছে সেখানটাতে। কিন্তু এর প্রকৃত কারণ কী? একটি জনপ্রিয় তত্ত্ব হলো, পর্বতে ইউক্যালিওপটাস গাছের তেল, ধূলি-কণা ও জলীয় বাষ্প মিশে যে আবরণ তৈরি হয় তার ভেতর দিয়ে সূর্যের আলো প্রবেশ করলে নীল রঙ সৃষ্টি হয়। আরেকদল মনে করেন, আকাশ নীল দেখানো ও এই পাহাড়শ্রেণী নীল দেখানোর কারণ একই। ধূলি-বালু, পানির কণা ও বাতাসের অন্যান্য উপাদান মিলে যে তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সৃষ্টি করে, তা অনেক কম। দীর্ঘ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের লাল রং আলো নয়, বরং তা নীল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের মতোই। কিন্তু এই তত্ত্ব এই প্রশ্ন সৃষ্টি করছে, যে সকল পাহাড়ে ইউক্যালিওপটাস গাছ নেই, সেগুলো তাহলে কেন নীল দেখায় না।
তারকা নক্ষত্র কি স্থায়ী?
কোনো তারকা কিংবা নক্ষত্রই স্থায়ী কাঠামোর অধিকারী নয়। কিন্তু তাদের পরিবর্তনে একটি দীর্ঘ পরিসরের প্রয়োজন হয়। আগে মনে করা হতো পৃথিবী থেকে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থানকারী এই সকল তারকা নক্ষত্রগুলো পরস্পরের সাথে সম্পর্কহীন, আর তারা তাদের স্বতন্ত্র পথে মহাশূন্যে ঘুরে বেড়ায়। এ কারণে দশ হাজার বছর কিংবা তারও বেশি সময় লাগে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন হতে। বর্তমানে অবশ্য এটা জানা গেছে যে, তারকাগুলোর আকৃতির কারণে নয়, আকাশে অবস্থানের কারণেই বেশি উজ্জ্বল দেখায়। একটি নক্ষত্রপুঞ্জের ভেতরকার কোনো তারকা অন্য কোনো তারকার সাথে মিশে গিয়ে অধিক আলো বিচ্ছুরণ করতে পারে, আর এই সময়কালও অনেক দীর্ঘ হয়ে থাকে।
২৪ মিনিটে ১৭,০০০ ফ্রেম
এ সময়ের অন্যান্য জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড টিভি শোগুলোর মতো সিম্পসনস ‘অন টুস’ পদ্ধতিতে চিত্র ধারণ করে থাকে। এই অন টুস পদ্ধতি হলো—একই ফ্রেমের ডাবল ব্যবহার। সাধারণত, এক সেকেন্ডের একটি ফিল্মে ১২টি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ফ্রেম থাকে। আর এগুলোর প্রতিটি দুবার করে উদ্ভাসিত হয়। সাধারণত একটি অ্যানিমেটেড শো’র কোনো এক পর্বের দৈর্ঘ্য হয় ২৪ মিনিট বা ১৪৪০ সেকেন্ড। আর এই সময়ে মধ্যে সিম্পসনস তাদের শো নির্মাণের জন্য ১৭,০২৮০টিরও অধিক ফ্রেম ব্যবহার করে থাকে।
টাক যুদ্ধ
টাক মাথায় কি চুল জন্মে? আসলে এখন পর্যন্ত টাক মাথায় চুল জন্মানোর কোনো বৈজ্ঞানিক খবর পাওয়া যায়নি। বাজারের চটকদার বিজ্ঞাপনে ‘টাক ঘুচে যাক’ শিরোনামে ব্যয়বহুল উপায়ে নকল চুল ব্যবহার করে মাথার সৌন্দর্য ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। টাকের সমস্যা নিয়ে বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি এমনকি ব্যক্তিগত পর্যায়েও গবেষণা অব্যাহত আছে। আমেরিকার পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক গত বছরে ঘোষণা দিয়েছেন, ইঁদুরের শরীরের গামা টি-সেল থেকে এক ধরনের গ্রোথ ফ্যাক্টর খুঁজে পেয়েছেন, যা লোম তৈরিতে বেশ কার্যকরী। কিন্তু দুভার্গ্যবশত, এটা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত স্কিনের জন্যই কাজ করে। আর সে কারণে কোনো টেকো লোকের মাথায় এই ফ্যাক্টর কাজ করার জন্য তাকে নিয়মিত মাথায় চিরুনি দিতে হবে!
টারমিনেটর লাইন
পৃথিবী তথা যেকোনো গ্রহ কিংবা বস্তুর ক্ষেত্রে এক পাশে দিনের আলো এবং অন্য পাশের রাতের অন্ধকার বিরাজ করে। কিন্তু এই দুটি অবস্থার মিলনস্থানকেই টারমিনেটর লাইন বলা হয়, যেখানে স্বল্প পরিমাণে দিনের আলো যেমন স্থায়ী থাকে, তেমনি অন্ধকারও দানা বাঁধতে শুরু করে। প্রতি মাসে এই টারমিনেটর লাইন পরিবর্তিত হয়। পৃথিবীরও এই লাইন আছে যা মহাশূন্য কিংবা চাঁদ থেকে দেখা যায়। এই লাইনকে সবুজ রঙের দেখায়, কারণ এ সময়ে সূর্যের আলো কম থাকায় বায়ুমণ্ডল থেকে এ রঙটাই আমাদের চোখে এসে ধরা দেয়। আর এ সময়েই চাঁদের পাহাড় কিংবা উপত্যকা ভালো করে দেখা যায়।
কার ঘ্রাণশক্তি বেশি?
একটি গোয়েন্দা কুকুরের ঘ্রাণশক্তি সাধারণ কুকুরের তুলনায় বেশি থাকে। মানুষের চেয়ে এই প্রাণীটির ঘ্রাণশক্তি চল্লিশ গুণ বেশি। এ কারণে এই কুকুরগুলোকে ‘নাকযুক্ত কুকুর’ বলা হয়ে থাকে। ভালুকের নাকও অনেক দূর থেকে ঘ্রাণ নির্ণয় করতে পারে। একটি মেরু ভালুক এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৩.২ ফুট বরফের নিচে থাকা সিল মাছের ঘ্রাণ পায়। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ঘ্রাণের জন্য সুন্দর নাক আছে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, যে প্রাণীটির ঘ্রাণশক্তি সবচেয়ে বেশি তার কোনো নাকই নেই। মথরা ঘ্রাণ বোঝার জন্য তাদের নাসারন্ধ্র আর মস্তিষ্কের বিশেষ ধরনের অ্যান্টেনা ব্যবহার করে। ভারতীয় লুনা প্রজাতির মথরা ১১ কিলোমিটার দূর থেকেও মহিলা মথের যৌন ফেরোমোনের একটিমাত্র অণুও শনাক্ত করতে পারে।
গ্রন্থনা সাইফুল ইসলাম জুয়েল
