কেনাবেচার ওয়েবসাইট নিয়ে আর্ল ইয়ং

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৪, ২০:০৫
অল্প বয়সী একটা ছেলে খুব উচ্চমানের জীবনযাপন করছে, দৃশ্যটা কল্পনা করলে মনে হবে, হতেই পারে এমনটা, হয়তো তার বাবার অঢেল সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু যদি জানা যায় অল্পবয়সী এই ছেলেটার এমন সম্পদ সে নিজে অর্জন করেছে, তাহলে মনে হয় একটু ধাক্কা খেতে হবে। অর্জনটা তারই। এমনই একজন প্রতিভাবান তরুণ আর্ল ইয়ংকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম শুরুর জীবনে আর্ল সপরিবারে বাস করতেন ইংল্যান্ডেই। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই ইংরেজী নিয়ে তার ছিলো অগাধ আগ্রহ। তেমন গভীরভাবে কিছু না বুজলেও মনে মনে ভেবে রেখেছিলেন ইংরেজী নিয়ে কিছু একটা করবেন তিনি। আইন পড়ার উদ্দেশ্যে ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইংল্যান্ডে। তার বাবা মারও এমনটাই ইচ্ছে ছিল তাকে নিয়ে যে ছেলে আইন পড়বে। পাশ করে হবে অনেক বড় একজন ব্যাক্তিত্ব। তিনি তার বাবা মার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন এটা তার কাছে অনেক বড় একটা তৃপ্তির ব্যাপার। পেশায় তার বাবা ছিলেন একেজন ইনভেস্টমেন্ট অ্যানালিস্ট এবং মা ফোর্ড গাড়ির ব্যবসা করতেন। ইংরেজীতে আগ্রহ থাকায় তার বাবা মা তার সম্পর্কে এমন ভেবে রেখেছিলেন। ইউনিভার্সিটিতে ফাইনাল সেমিস্টারে পড়ার সময় তিনি আবিসড়ার করলেন তার চোখের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এবার তাকে চশমার সাহায্য নিতে হবে। সেই ছোটবেলা থেকে এই জিনিসটাকে ভয় পেতেন তিনি। যখন দেখতেন তার বন্ুরা চশমা পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, খুব খারাপ লাগতো তার বন্ুদের জন্য। আর একসময় নিজেরই পড়তে হল চশমা। আরও অবাক হলেন যখন দেখলেন চশমার দোকানী সামান্য এই চশমার দাম ধরলেন অনেক বেশি। রাগ হল তার, তিনি প্রথমেই সরাসরি ম্যানুফ্যাকচারারের সাথে যোগাযোগ করলেন। অনেক আলাপের পর রহস্য উদঘাটন করলেন কিভাবে তৈরী হয় চশমা তৈরীর উপাদানগুলো। এরপর গেলেন চশমার কারিগরের কাছে। জানলেন এই উপাদান থেকে কিভাবে চশমা তৈরী করা হয়। সব জানা শেষ, এবারে ফিরলেন সেই চশমার দোকানীর কাছে। তাকে দিয়ে সত্য বের করার জন্য খুলে বললেন সব কথা। একসময় দোকানী স্বিকার করলেন যে সাত ডলারের চশমা তারা ১৫০ ডলারে বিক্রি করে। বেশ ভাল একটা আইডিয়া ঢুকলো তার মাথায়। পুরো ব্যাপারটি থেকে পাওয়া অনূপ্রেরণা কাজে লাগালেন। বেশ জোড়ালো একটা ব্যাবসায়িক আইডিয়া পাওয়া গেছে। সেটাকে তো আর এভাবে ফেলে রাখা যায় না। আর সেটাকে কাজে লাগিয়ে যে বিশাল কিছু করে ফেলা যাবে তিনি তার আন্দাজ করেছিলেন আগে থেকেই। ব্যাস, কাজে নেমে পড়লেন। কিছুদিন ধরে সময় নিয়ে তৈরী করলেন নিজেস্ব একটি ওয়েবসাইট। সেখানে রাখলেন সরাসরি চশমা কেনার ব্যাবস্থা। জনসাধারনের কাছে উন্মুক্ত করে দিলেন তার এই কেনা বেচার ওয়েবসাইটটি। নিজেই পরিচালনা করতেন সেটি। বেশকিছু ভাল চশমাও কিনে ফেললেন খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে। জয়েন করলেন অনলাইন রিটেইলার গ্রুপগুলি। তাদের মাধ্যমে এই ব্যাবসা সম্পর্কিত আরও খবর জানতে পারলেন তিনি। আর কোন "্বিধা থাকলো না তার মনে। পুরোদমে শুরু করে দিলেন ব্যাবসার কাজটি। চশমার মনোপলি মার্কেটের সাথেও যোগাযোগ করলেন। মনোপলি মার্কেট হল একটি বিশেষ ব্যাবস্থা যার মাধ্যমে যেকোন জিনিসের খুচরা ডেলিভারী পাওয়া যায়, শুধুমাত্র ব্রিটেনের ব্যবসায়ীদের জন্য এই ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে। তার আইডিয়া সবাই খুব আনন্দের সাথে গ্রহনও করল। শুরুর এক বছরের মাথায় ২২হাজার চশমা জোড়া বিক্রি করে ফেললেন। আর তার কিছুদিনের মাথায় লাভের একটা বড় অংশও তুলে নিলেন তিনি। ২০০৭ সালে শুরু করেছিলেন তার জেমস ওয়েলস গ্লাস কোম্পানিটি। ২০০৯ সাল, মানে মাত্র ২ বছরের মধ্যেই প্রায় ৭০ জন কর্মী নিয়োগ করে ফেললেন তিনি। একটা মজার হিসেব বের করা হল, তার এই কোম্পানি নাকি, প্রতি তিন মিনিটে এক জোড়া চশমা বিক্রি করে। তার এ ব্যাবসা তার জীবনটাই পাল্টে দিয়েছিলো। বাবা মার কাছ থেকে কোন অর্থ আর নিতেন না তিনি। সড়ুল থেকে নেওয়া লোনও শোধ হয়ে গিয়েছিল তার। একসময় এই ব্যবসা খাতে তার অবদানের জন্য চশমা প্রস্ততকারী কোম্পানি থেকে তাকে গ্রেট ইয়ং বিজনেসম্যান পুরসড়ার প্রদান করা হল। এক বছরের মধ্যেই এই ব্যবসা থেকে তিনি প্রায় এক কোটির মত আয় করেছিলেন। শুধু চশমা বিক্রি করেই খ্যান্ত দেননি। ২০১০ সালের দিকে শুরু করলেন নতুন একটি সাইট, নাম হেয়ারডিরেক্ট ডট কম। হেয়ারিং এইড বিক্রি শুরু করেন তিনি। ব্রিটেনের প্রায় ৮ মিলিয়ন শ্রবন প্রতিবন্ী মানুষকে লক্ষ করে তিনি এই প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিলেন। সেখানেও সফল হন তিনি। এক কাজ করে তিনি বেশ কিছু পুরসড়ারই পেয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে ২০০৯ সালের কুইনস অ্যাওয়ার্ড ফর এন্টারপ্রাইজ প্রমোশন পুরসড়ার পান তিনি। আর তিনিই ছিলেন একমাত্র তরুণ ব্যাবসায়ী যিনি এত অল্প বয়সে এত সাফল্য অর্জন করেন। ই-বে এর মত একটি ওয়েবসাইট এর সাথে তিনি শুরু করেন তার ব্যাবসা। পরবর্তীতে সেখানে অসংখ্য ছোটখাট ব্যাবহার-এর উপযোগী জিনিসপত্র তিনি এই সাইটের মাধ্যমে কেনা বেচা করেন।