সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি ভারতের চেয়ে এগিয়েছে। বাংলাদেশে প্রাথমিকও মাধ্যমিক শিক্ষায় ৫০ শতাংশ নারী, যা দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলংকা ছাড়া কোন দেশ অর্জন করতে পারেনি। অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি, উদ্যোক্তা, শ্রম সকল ক্ষেত্রের নারীর নয়া এমডিজি অর্জনে ভিন্নমাত্রা যুক্ত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং কিছু প্রস্তাবনা দেন। গতকাল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গত ৪ এপ্রিল ছিল বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এই উপলক্ষে ‘একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পেশাদারী দক্ষতার কোন বিকল্প নাই’ শ্লোগান নিয়ে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান এবং ইউএনউইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্রিস্টিন সুশান হান্টার। মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ। ঘোষণাপাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, প্রতিশ্রুতিশীল খাত, গার্মেন্টস খাতের অর্থনৈতিক মূল্য সংযোজনের মূল উত্স নারীরাই। যখনই নিজেদের পছন্দমতো ভোট দেয়ার সুযোগ ঘটেছে, তখন নারীরা বিপুল সংখ্যায় ভোট দেয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু এখনো নারী আন্দোলনের অনেক কাজ বাকি।
ইউএনউইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্রিস্টিন সুশান হান্টার বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন পেশার নারীরা আজ এখানে একত্রিত হয়েছেন যা দেখে আমার খুব ভাল লাগছে। এদেশের নারীর অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তিনি পরিষদের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার সাধারণ সদস্যের পক্ষ থেকে দেশের সকল প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠন, সাংবাদিক, আইনজীবী, নাগরিক সমাজের সংগঠনসমূহ ও ব্যক্তিত্বসহ দেশবাসী সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, আমাদের চিন্তা ও কর্মধারায় উত্সারিত আছে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, বিশ্বনারী আন্দোলনের প্রতীকী ব্যক্তিত্ব সিমন দ্য বেভার, ম্যারি ওলস্টোনক্রাফ্ট থেকে শুরু করে প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব কবি সুফিয়া কামাল, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, ইলা মিত্র, হেনা দাস প্রমুখ।
সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, বাংলাদেশে সমতাপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অবিভাজ্য অংশ এদেশের নারী আন্দোলন। নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দেশের পুরুষ সমাজকে সম্পৃক্ত করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। বৈশ্বিকভাবেও জাতিসংঘ বর্তমানে হি ফর সি ক্যাম্পেইন শুরু করেছে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ বলেন, সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত অর্থাত্ দেশে নারী পুরুষের সমতাপূর্ণ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত মহিলা পরিষদের আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি শরিফুন্নেসা বেবী, আদিবাসী নারী টুকি চাম্বু গং, কৃষকনারী খাদেজা খাতুন, গার্মেন্টস শ্রমিক শাহনাজ বেগম ও তৃণমূল সংগঠক হেনা চৌধুরী ও শাহানা বেগম।
