ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমর্থক এক প্রবীণ বন্ধুর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ হচ্ছিলো। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক যে দুরবস্থা সে সম্পর্কে তার কাছে আমার উদ্বেগ প্রকাশ করতেই তিনি বললেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আর সংগঠনের দরকার নেই। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকার এখন ব্যুরোক্রেসি, মিলিটারি এবং বিজনেস সিন্ডিকেটগুলোরও সমর্থন আদায় করেছে। সংগঠন মানেই দলাদলি। এই দলাদলির মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার জড়িত থেকে আর সময় নষ্ট করতে চায় না।’
তার জবাব শুনে বিস্মিত হলাম। অর্ধ শতকেরও বেশি বয়সের একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব অথবা সরকার যদি মনে করে তাদের আর সংগঠন শক্তির দরকার নেই, তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য বড় ভয়ের কথা আর কিছু নেই। এই নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার অবশ্যই তার সামরিক অসামরিক প্রশাসনের আনুগত্য অর্জন করবে। কিন্তু তার পেছনে সংগঠন শক্তি ও জনগণের আস্থা না থাকলে আমলা নির্ভর সেই সরকার বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। তাদের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করতে পারে না।
আমলাতন্ত্র যতো শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ হোক, তারা দেশের জন্য কোনো কল্যাণকর নীতি নির্ধারণ করতে পারে না। কারণ, জনগণের নাড়ির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এই সম্পর্ক থাকে রাজনীতিকদের। তারা জনগণের মনের কথা জানেন। তাদের ভালোমন্দ বোঝেন এবং সেই অনুযায়ী তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার পরিপূরক নীতি নির্ধারণ করতে পারেন। এক্ষেত্রে আমলাদের ভূমিকা হচ্ছে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা দ্বারা গণতান্ত্রিক সরকারের সেই নীতি ও কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা। এই নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশের রাজনৈতিক সরকার যদি ব্যর্থ হয় এবং এই নীতি নির্ধারণে তারা আমলাতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে সেই সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে আর সক্ষম হয় না।
জনগণের আস্থা অর্জনের চাইতে সিভিল-মিলিটারি ব্যুরোক্রসির সমর্থনের উপর নির্ভর করে দেশ চালাবার ভুল নীতি অনুসরণ করে আজ বিএনপি’র না ‘ঘরকা’, না ‘ঘাট্কার’ অবস্থা। ক্যান্টনমেন্টে বসে জেনারেল জিয়া ক্যান্টনমেন্টের সমর্থনে বিএনপি গঠন করেন। সঙ্গে ছিল কিছু দলছুট, নীতি ও চরিত্রহীন ‘জ্বি হুজুর’ রাজনীতিক। দেশ শাসিত হয়েছে জেনারেল জিয়ার হাতে গড়া একটি তথাকথিত রাজনৈতিক দলের নামে। কিন্তু কারো বুঝতে অসুবিধা হয়নি, সেটি ছিল তার সামরিক শাসনের সিভিল ফেস্।
জেনারেল জিয়া নিহত হওয়ার পর তার দলের কিছু প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা দলটিকে একটি গণসম্পৃক্ত রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে তারা সফল হননি। দলটিতে গোড়া থেকেই ছিলো অবসরপ্রাপ্ত সামরিক অফিসারদের আধিপত্য। পরে তাতে অবসরপ্রাপ্ত সিভিল ব্যুরোক্রাটদেরও প্রভাব বিস্তৃত হয়। বিএনপি সিভিল-মিলিটারি ব্যুরোক্রেসির এই সমর্থন কি শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পেরেছে? পারেনি। সিভিল-মিলিটারি ব্যুরোক্রেসি যখনই বুঝেছে, বিএনপি’র পেছন থেকে জনসমর্থন ক্রমশ সরে যাচ্ছে এবং তা পুনরুদ্ধার করার মতো সংগঠন-শক্তি বিএনপি’র নেই; তখন তারা জেনারেল এরশাদের পেছনে গিয়ে জুটেছেন এবং এরশাদ জাতীয় পার্টি নামে ক্যান্টনমেন্টেই গড়া আরেকটি “সিভিল ফেস” উপহার দিয়েছেন তাদের।
১৯৯০ সালে যে আবার এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে তার অন্তত একটি কারণ তার বিরুদ্ধে স্বৈরাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অত্যধিক নারী প্রীতির অভিযোগে জনগণ যখন চরম বিক্ষুব্ধ, সেই বিক্ষোভ প্রশমনে তার জনবিচ্ছিন্ন জাতীয় পার্টি কোনো ভূমিকাই গ্রহণ করতে পারেনি। জাতীয় পার্টি ছিলো সরকার-নির্ভর, অসংগঠিত ও দুর্বল। অন্যদিকে সামরিক ও অসামরিক আমলাতন্ত্রের বৃহত্ অংশের সমর্থনও তখন জেনারেল এরশাদের পেছন থেকে সরে গেছে। কারণ, তারাও তখন বুঝে গেছে, জেনারেল এখন ডেড হর্স। তার সংগঠন নেই। জনগণের সমর্থনও তার পেছন থেকে সরে গেছে।
কোনো দেশেই আমলা নির্ভর সরকার বেশিদিন তার গণতান্ত্রিক চরিত্র বজায় রাখতে পারে না। বরং তাকে একটি স্বৈরাচারী চেহারা দান করে। আমলা-নির্ভর সরকারের জনবিচ্ছিন্নতা বাড়তে থাকে এবং শক্তির দাপট দেখিয়ে সেই সরকার বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেন না। সরকারের পেছনে সংগঠনের শক্তি না থাকায় এবং দুর্বল সংগঠন জনসমর্থন ধরে রাখতে না পারায় সেই সরকারের পতন ঘটে। আমলাতন্ত্রও তখন সুযোগ বুঝে ‘নতুন প্রভু’ বরণের জন্য ভোল পাল্টায়।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ যে এতো ঝড়-ঝাপ্টার মধ্যেও টিকে আছে, তার কারণ, দলটির সাংগঠনিক শক্তি এবং তাতে ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান কর্মী ও নেতার সংখ্যাগরিষ্ঠতা। আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক শক্তি তৈরি হয়েছে বঙ্গবন্ধু যখন পঞ্চাশের দশকে দলটির সাধারণ সম্পাদক হন তখন থেকেই। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এবং বঙ্গবন্ধু মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তখন সংগঠনের অস্তিত্ব রক্ষা ও শক্তি বৃদ্ধির জন্য তিনি স্বেচ্ছায় মন্ত্রী পদ ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ গ্রহণ করেন। তাঁর সাংগঠনিক প্রতিভার গুণে আওয়ামী লীগের শুধু জন-সম্পৃক্ততাই বাড়েনি; অল্পদিনেই আওয়ামী লীগ দেশের সর্ববৃহত্ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়।
এই সময়ের একটি ঘটনার কথা আমার মনে আছে। তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে তখন আওয়ামী লীগের আতাউর রহমান সরকার ক্ষমতায়। শেখ মুজিব মন্ত্রী পদত্যাগ করে দল সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি এক দুপুরে রামকৃষ্ণ মিশন রোডে দৈনিক ইত্তেফাকের পুরনো অফিসে এসে হাজির হন। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া তখন বেঁচে আছেন। শেখ মুজিব তার কাছে প্রায়ই আসতেন। সেদিনও এসেছেন।
মানিক মিয়া বললেন, মুজিবর মিয়া, (তিনি শেখ সাহেবকে মুজিবর মিয়া বলতেন, আর শেখ সাহেব তাকে ডাকতেন মানিক ভাই) আপনার বুকের পাটা আছে। মন্ত্রিত্ব ছাড়ার এতো বড় সাহস ও ত্যাগ দেখালেন! আর কেউ মন্ত্রিত্ব ছাড়তে এভাবে রাজি হতেন না!
শেখ মুজিব বললেন, মানিক ভাই, সরকার বড় না সংগঠন বড়? সরকার আজ আছে কাল নেই। কিন্তু সংগঠন থাকে। সংগঠন থাকলে সরকার থাকে, নইলে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না, আমি তাই সংগঠনের শক্তি বাড়ানোর কাজে নামছি। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্যই শক্তিশালী সংগঠন দরকার। নইলে ভবিষ্যতে আমরা কেউ টিকে থাকবো না।
আমি তখন ‘ইত্তেফাকে’ চাকরি করি। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মানিক মিয়ার এই কথাবার্তার সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম। পরবর্তীকালে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক ঝড় ঝঞ্ঝার সময় বঙ্গবন্ধুর এই কথার যথার্থতা অনুভব করেছি। দেশের উপর, জনগণের উপর, গণতন্ত্রের উপর সেই পাকিস্তান আমল থেকে যতো বড় বড় আঘাত এসেছে, তা ঠেকিয়েছে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি, আওয়ামী লীগ সরকার তা ঠেকায়নি বা ঠেকাতে পারেনি।
সেই আওয়ামী লীগের সরকারের সদস্য অথবা সমর্থক কেউ যদি আজ দলটির প্রতিষ্ঠা লাভের পঁয়ষট্টি বছর পর বলেন, এই সরকারের পেছনে ব্যুরোক্রেসি ও বিজনেস সিন্ডিকেটের সমর্থন আছে, তার পেছনে সংগঠনের শক্তির তেমন প্রয়োজন নেই, তাহলে বলবো, তিনি বা তারা আহাম্মকের বেহেশতে বাস করছেন। ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষাই তারা নেননি। আমলাতন্ত্র কখনোই কোনো গণতান্ত্রিক সরকারকে পূর্ণ ও স্থায়ী সমর্থন দেয় না। তারা তাদের কায়েমি স্বার্থ বজায় রাখার জন্য বরং জনপ্রিয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণকর কর্মসূচিতে ত্রুটি ও দুর্নীতি ঢুকিয়ে তাকে সফল হতে দেয় না। তারাও সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাসে নিজেদের ভূমিকা রাখেন। অতঃপর সরকার জনপ্রিয়তা হারালে তাকে পতনের রাস্তায় ঠেলে দিয়ে নতুন প্রভু বরণের জন্য প্রস্তুত হন। সরকার বদল হয়; কিন্তু আমলাতন্ত্র বদলায় না। ক্ষমতা তাদের হাতে থেকে যায়।
আমার একটি বড় ভয়, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ধীরে ধীরে তার রাজনৈতিক চরিত্র হারাচ্ছে। রাজনৈতিক চরিত্র হারালে কোনো সরকারের গণতান্ত্রিক চরিত্রও টিকিয়ে রাখা যায় না। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক চরিত্র যে এখনো টিকে আছে, তা শেখ হাসিনার একক ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণে। কিন্তু তাকেও আমলাতন্ত্র ধীরে ধীরে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে। ফলে সরকারের বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না, ঝুলে আছে। দুর্নীতি দমনে সরকার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঝুলে গেছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি নেই বললেই চলে। প্রচার শক্তি আরও দুর্বল। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ লাইসেন্সবাজি, টেন্ডারবাজিতে ব্যস্ত। সর্বত্র দল ও সহযোগী দলগুলোর ভিতর একাধিক ভাগ। সংগঠন এভাবে দুর্বল হতে লাগলে সরকারকে তারা কিভাবে ধরে রাখবে?
অনেকেরই প্রত্যাশা ছিল, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত যখন প্রবল হয়ে উঠছে, তখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সকল প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক দল ঐক্যবদ্ধ হবে এবং দেশকে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদী সন্ত্রাস থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করবে। দেশের সেক্যুলার রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মকে আগ্রহী ও ঐক্যবদ্ধ করে তোলার জন্য যুগোপযোগী কর্মসূচি দেবে। আওয়ামী লীগ এই গণতান্ত্রিক ঐক্য গড়ে তুলতে পারেনি। গত বছর শাহবাগ চত্বর কেন্দ্রিক তরুণ প্রজন্মের বিশাল অভ্যুত্থানের ঐক্যও ধরে রাখতে পারেনি। এই ঐক্য এখন খণ্ডিত এবং আওয়ামী লীগ ও এই তরুণ প্রজন্মের একটা অংশ একটা সাংঘর্ষিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
পাকিস্তান আমলে ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সময়েও এই ধরনের একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয়দফার পাশাপাশি বামপন্থী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনের শত্রুপক্ষ চেয়েছিল, ছয়দফা ও এগারো দফার মধ্যে সংঘর্ষ বাধিয়ে আন্দোলনের ঐক্য ও শক্তিকে খর্ব করতে। বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত দূরদর্শিতার সঙ্গে এই চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেন এবং ঘোষণা করেন, ছয়দফা ও এগারো দফা পরস্পরের পরিপূরক এবং এরমধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণার পর ছয়দফা ও এগারো দফার মিলিত আন্দোলন দুর্বার হয়ে ওঠে এবং অচিরেই তা মুক্তিযুদ্ধে রূপান্তরিত হয়।
সাম্প্রতিক শাহবাগ আন্দোলনে তারুণ্যের যতো হঠকারিতা ও এডভেনচারিজম প্রকাশ পাক, আওয়ামী লীগের উচিত ছিল এদের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। বাইরের অপশক্তি যাতে তাদের প্রভাবিত করতে না পারে, সেজন্য তাদের সঙ্গে সলিডারিটি রক্ষা করা। ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে তোফায়েল আহমদ নেতৃত্বদানের শীর্ষে উঠে এসেছিলেন তাই বলে তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হয়ে ওঠেননি। বরং পরে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী হয়েছেন।
তেমনি শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন থেকে ইমরান সরকার বা আর কেউ শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে এলে তার বা তাদের পক্ষে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হওয়ার সম্ভাবনা কল্পনা করাও যায় না। শাহবাগ-আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বকে আওয়ামী লীগের উচিত ছিল ধ্বংস করার চেষ্টা না করে কাছে টেনে নেওয়া। তাহলে ঊনসত্তরের তোফায়েল আহমদের মতো ইমরান সরকারও আওয়ামী লীগের শত্রু না হয়ে পরম মিত্র হতেন। চাই কি আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতেও পারতেন। যা আওয়ামী লীগকে আমলা নির্ভরতা থেকে মুক্ত করে গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক চরিত্র ফিরে পেতে সাহায্য জোগাতো।
এখনো সময় আছে। আমার একান্ত আশা ভারতের কংগ্রেস দলের মতো বাংলাদেশের আওয়ামী লীগও যেন আমলাতন্ত্রের পেটে হজম হয়ে না যায়। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতাদের উচিত, আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবো এই দম্ভোক্তি অহরহ উচ্চারণ না করে দেশি-বিদেশি প্রতিক্রিয়াশীল চক্রান্ত থেকে দেশকে মুক্ত করা ও মুক্ত রাখার জন্য সংগঠনের শক্তি বাড়ানো এবং দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত ও বিভক্ত হতে না দিয়ে সেক্যুলার রাজনীতির ঐক্যবদ্ধ শিবিরে এনে জমায়েত করা। নইলে ভবিষ্যতের আরো বড় বিপদ এড়ানো যাবে না।
লন্ডন :১৯ এপ্রিল, শনিবার, ২০১৪
