গ্লুকোমা সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলনে তথ্য
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের ৭০ লাখ মানুষ গ্লকোমার কারণে অন্ধত্ব বরণ করেছেন এবং কোটি কোটি মানুষ গ্লকোমা রোগে ভুগছেন। এই রোগের প্রতিরোধের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়াও বিশ্ব গ্লকোমা সমিতি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও রয়েছে গ্লকোমা সোসাইটি। যাদের মূল উদ্দেশ্য—নীরব অন্ধত্বের কারণ গ্লকোমা সম্পর্কে আমাদের জনগণকে সচেতন করা। গ্লকোমা দ্রুত নির্ণয় করে উন্নত চিকিত্সা দেয়া ও চিকিত্সকদের জ্ঞান আপডেট করা।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ গ্লকোমা সোসাইটি’র চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলনে গ্লকোমা বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। বাংলাদেশ গ্লকোমা সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক, অধ্যাপক সৈয়দ মারুফ আলী, অধ্যাপক ডা. আভা হোসেন, অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ডা. সাহাব উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সোসাইটির মহাসচিব ডা. নাজনীন খান।
দিনব্যাপী গ্লকোমা সম্মেলনে দেশ-বিদেশের চার শতাধিক চক্ষু ও গ্লকোমা বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে চোখের উচ্চচাপ গ্লকোমা রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিত্সা বিষয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়ামসহ একাধিক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, আমি বিশ্বাস করি—আমরা বিশ্বের যেকোন মানের চিকিত্সকদের সমকক্ষ। কিন্তু যোগাযোগ না থাকায় অনেকে আমাদের ভুল বোঝে। আমাদের বোঝাতে হবে, কারণ শেষ পর্যন্ত চিকিত্সকদের বন্ধু হচ্ছে রোগীরা। রোগীরা কখনো চিকিত্সকদের প্রতিপক্ষ নয়। তাদের সাথে আমাদের যত ভুল বোঝাবুঝি হোক না কেন, তা মেটাতে হবে। ঠিক তেমনিভাবে গণমাধ্যম; গণমাধ্যমের কর্মীরা সবসময় আমাদের বন্ধু, তারা আমাদের উপকার করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দলীয় রাজনীতি থাকবে, আদর্শগত পার্থক্য থাকবে, কিন্তু আমাদের পেশাগত ব্যাপারে কোন পার্থক্য থাকা চলবে না।
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক মারুফ আলী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য দিয়ে বলেন, গ্লকোমা চোখের অন্ধত্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ। এই অন্ধত্ব নিরাময়যোগ্য নয়। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জনসংখ্যার ১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ২ শতাংশ গ্লকোমা রোগে আক্রান্ত এবং এর কয়েকগুণ বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পথে রয়েছেন।
