চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ!

আপডেট : ২৪ মে ২০১৯, ২১:০৭

চলন্ত ট্রেনে সারা বত্সরই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়া থাকে। তবে ঈদ সন্নিকটে বিধায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা অধিক মাথাব্যথার কারণ হইয়া উঠিয়াছে। সাধারণ সময়ের তুলনায় ঈদোত্সবের ক্ষণে প্রতিটি ট্রেনেই যাত্রীসংখ্যা অনেক বেশি থাকে। স্বাভাবিকভাবেই এই সময়ও যদি চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা পূর্ববত্ অব্যাহত থাকে তবে তাহা দুশ্চিন্তারই বটে। বিশেষ করিয়া বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাইয়াছে। খুলনা হইতে ঈশ্বরদী জংশন ও বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম হইতে টাঙ্গাইল স্টেশন পর্যন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যাত্রীদের অনেকেই গুরুতর আহত হইয়াছেন। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটিতেছে।

রেলওয়ে পুলিশ তদন্ত করিয়া দেখিয়াছে, চলন্ত ট্রেনে যত পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়াছে তাহার ৮০ শতাংশই শিশু-কিশোরদের কাজ। তাহারা ইহার ভয়াবহতা বুঝিতে পারে না। আরো অস্বস্তির কথা হইল, শুধু পাথর নহে, সম্প্রতি কিছু কিছু ট্রেনে মলমূত্র ও আবর্জনা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটিয়াছে। এই ব্যাপারটি অনেকের নিকট স্বাভাবিক মনে হইতেছে না। মনে করা হইতেছে, ইহার নেপথ্যে কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের বিশেষ উদ্দেশ্য কাজ করিতে পারে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়াছে, গত বত্সরের জুলাই হইতে চলতি বত্সরের এপ্রিল মাস অবধি ১০ মাসে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী বিভাগে পাথর নিক্ষেপের মোট ৩২টি ঘটনা ঘটিয়াছে। পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হইয়াছে তিন শিশুসহ ১১ জন। মারা গিয়াছেন এক রেলওয়ের কর্মকর্তা। এই সমস্যা পাকশীতে বেশি হইলেও দেশের অন্যত্রও ইহার উপদ্রব কম নহে। সূত্রমতে, সারা দেশে ৩ হাজার ২৮০ কিলোমিটার রেলপথ রহিয়াছে। প্রতিদিন গড়ে ৩৫০টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। রেলপথ সচিব জানাইয়াছেন, পাথর নিক্ষেপে দরজা-জানালার কাচ ভাঙার দুই হাজার ঘটনা ঘটিয়াছে। ক্ষতিগ্রস্ত রেলের মেরামত খরচ বত্সরে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা। রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী, ট্রেনে পাথর ছোড়া হইলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রহিয়াছে। এবং পাথর নিক্ষেপে কাহারো মৃত্যু হইলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান রহিয়াছে।

পাথর নিক্ষেপ হইতে শিশু-কিশোরদের নিরস্ত করিতে জনসচেতনতা তৈরির জন্য প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ, জনপ্রতিনিধি ও মসজিদের ইমামের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হইয়াছে। পাথর নিক্ষেপ করিলে কী ধরনের শাস্তি হইতে পারে, সেই ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ হইতে সাধারণ মানুষের নিকট তুলিয়া ধরা হইতেছে। কিন্তু এই সকল পদক্ষেপ গ্রহণের পরও এখন অবধি বিশেষ কাজ হয় নাই। এখন পর্যন্ত পাথর নিক্ষেপকারী কাহারো শাস্তির দৃষ্টান্ত নাই বিধায় ইহাকে শিশু-কিশোররা অপরাধই মনে করে না। আমরা মনে করি, প্রতিটি ট্রেনেও কয়েকটি সিসি ক্যামেরা বসানো যাইতে পারে, যাহাতে অপরাধীদের চিহ্নিত করা যায় এবং শাস্তি দেওয়া যায়। বিশেষ করিয়া ঈদ উত্সব সামনে রাখিয়া সিসি ক্যামেরা ব্যবহারসহ সতর্কতামূলক  পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত হইবে বলিয়া আমরা মনে করি।