সফল প্রজন্ম

দিনমজুর থেকে বিশ্বের সেরা ধনী

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৩৪
স্কটল্যান্ডের সাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান্ড্র-কার্নেগি। জীবনের শুরুতে একটি কুঁড়েঘরে বেড়ে ওঠেন তিনি। ওই ছোট ঘরকেই খাবারের ঘর ও ঘুমানোর ঘর হিসেবে ব্যবহার করতে হতো তার পুরো পরিবারকে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য ছিল তার পরিবারের নিত্যসঙ্গী। এরপর তার বাবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে পেনিসেলি্ভয়াতে পাড়ি জমান। এখানে এসে অবস্থার উন্নতি না হলেও পরিবারকে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হতো না। এখানে সুতার কাজ দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন। যদিও এখানে তার আয় ছিল খুবই নগণ্য। এখানে দৈনিক ১২ ঘণ্টা করে সুতার নাটাই পরিবর্তনের কাজ করতেন। এই কাজ তার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না বুঝতে পেরে কিছুদিন পর কাজটি ছেড়ে দিলেন। এরপর সপ্তাহে আড়াই ডলার আয়ে টেলিগ্রাফ বাহকের কাজ শুরু করলেন। এই চাকরি তার জীবনে কিছুটা বিনোদন বয়ে নিয়ে আসে। চাকরির সুবাদে স্থানীয় থিয়েটারগুলোতে যেতে পারতেন। অল্পদিনের মধ্যেই তার বেতন সপ্তাহে ৪ ডলারে গিয়ে দাঁড়াল। মাত্র আঠারো বছর বয়সেই তিনি ওই কোম্পানির অনেক উপরের অবস্থানে উঠে গেলেন। তার এই পরিবর্তনের মূলে ছিল অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম। এভাবে ধীরে ধীরে একজন বিনিয়োগকারীতে পরিণত হন। যার ফলে তিল তিল বিনিয়োগ করে যাচ্ছিলেন আডামস এক্সপ্রেস কোম্পানিতে। এরপর কার্নেগি তার এক বন্ধুকে সাহায্য করতে তার গাড়ির ব্যবসার শেয়ার গ্রহণ করেন। এই সুযোগে কার্নেগি তার সকল টাকা রেলওয়েতে পুনর্বিনিয়োগ করেন। দেশে গৃহযুদ্ধ লাগলে ওই সময় তিনি যেসব বিনিয়োগ করেছিলেন তাতে আরও লাভবান হন এবং তার ভাগ্য খুলে যায়। তারমধ্যে একটিতে যেখানে ৪০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন সেটা থেকে খাঁটি তেলের উত্স সমৃদ্ধ স্টোরি ফার্মের মালিক হন। তার এই ফার্মের তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য থেকে যে টাকা লাভ হয়েছিল তা দিয়েই বছরের শেষেই তার ধার করা ১০ লক্ষ ডলারের ঋণ পরিশোধ করে দেন। গৃহযুদ্ধ থেমে গেলে তার জন্মস্থান ডুনফার্মলিনে এলাকার এক লাইব্রেরিতে ৪০ হাজার ডলার দান করেন। এ ছাড়াও যুদ্ধাহত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে মেডিক্যাল কলেজে আরও নার্স তৈরি করতে ও রোগীদের জীবন বাঁচাতে তিনি আরও ৫০ হাজার ডলার সাহায্য করেন। তেল ও স্টিল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে অল্পদিনের মধ্যেই তিনি সম্পদশালীতে পরিণত হন। এবার নিজের আত্মকাহিনী নিয়ে প্রথম বই রচনা করেন। অল্পদিনের মধ্যেই বইটির ৪০ হাজারের অধিক কপি বিক্রি হয়ে যায়। তার লেখনশৈলী এবং বুদ্ধিমত্তা তাকে তাড়াতাড়িই লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত করে তোলে, যা তার আরও একটি আয়ের উেস পরিণত হয়। ১৮৯৮ সালের মধ্যেই তিনি ২০ মিলিয়ন ডলারের অধিক অর্থের মালিক হন এবং একটি নিলামে ২০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে স্পেনের কাছ থেকে ফিলিপাইন রাষ্ট্রটিকে কিনে নিতে চান, কারণ তিনি এর মাধ্যমেই ফিলিপাইনকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন। এই মহান উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, লেখক এবং সমাজসেবক ৮৩ বছর বয়সে ১৯১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং রেখে যান ৩৫০,৬৯৫,৬৫৩ ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ, যা আজকের হিসাবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারেরও অধিক।