মজিলা ফায়ারফক্স, অনলাইল বিশ্বের একটি জনপ্রিয় নাম। এই নামধারী প্রতিষ্ঠানটি ব্রাউজিংয়ের সেবা দানের জন্য জনপ্রিয়। মজিলার হাত ধরে আজ আমাদের মধ্যে অনেকেই ঘুরে আসেন অনলাইনের দুনিয়াটা। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে গুগল ক্রোমের পরপরই স্থান মজিলার। জনপ্রিয় এই প্রতিষ্ঠানটিতে সম্প্রতি এসেছে পরিবর্তন। জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
মজিলা ফায়ারফক্স কয়েক বছর ধরেই অনলাইন সার্ফিংয়ের নিরন্তর সেবা দিয়ে যাচ্ছে আমাদের। সেই সাথে তারা যোগ করেছে একটি মজিলা স্টোর। এখানে নানা ধরনের থিম থেকে শুরু করে গেম পর্যন্ত রয়েছে। মজিলার এই জনপ্রিয়তার পেছনে অন্যতম কারিগর হলেন মজিলার নির্বাহী। সম্প্রতি মজিলাতে নির্বাহী পদে এসেছে পরিবর্তন। মজিলার সাবেক প্রধান নির্বাহী ব্র্যান্ডন আইচের স্থলে অন্তর্বর্তীকালীন নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে এসেছেন ক্রিস বেয়ার্ড। যোগদানের মাত্র ১১ দিনের মাথায় প্রধান নির্বাহীর (সিইও) পদ থেকে জাভাস্ক্রিপ্টের জনক ব্র্যান্ডন আইচ সরে দাঁড়ানোর পর থেকে নতুন প্রধান নির্বাহী খুঁজছিল অলাভজনক সংস্থা মজিলা করপোরেশন। সম্প্রতি মজিলা বোর্ডের সদস্য ক্রিস বেয়ার্ডকে এই পদে অন্তর্বর্তীকালীন নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৪ সাল থেকে মজিলাতে কাজ করেছেন ক্রিস বেয়ার্ড। বেয়ার্ড এইচপি, সান মাইক্রোসিস্টেমের জ্যেষ্ঠ পণ্য এবং বিপণন প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি মজিলার প্রধান বিপণনকারী কর্মকর্তা (সিএমও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফায়ারফক্স ব্রাউজার চালু করতে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। ২০১৩ সালে তিনি মজিলা ছেড়ে গ্রেলক পার্টনার্সের এক্সিকিউটিভ ইন রেসিডেন্টস হিসেবে যোগ দেন। মজিলাতে যোগ দেওয়ার আগে ১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে তিনি ফুপিন গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন যা লিনাক্স কেয়ার নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান চালু হওয়ার দুই বছর পর অধিগ্রহণ করে।
পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার
ক্রিস বেয়ার্ড ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গ থেকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে এমবিএ সম্পন্ন করেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি জন ম্যাকফারলেন প্রাইজ ফর লিডারশিপ পুরস্কার পান। এর আগে তিনি ইউনিভার্সিটি অব অটোয়া থেকে অর্থনীতি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিষয়ে পড়াশোনা করেন।
ওয়েবসাইট দেখার জনপ্রিয় ব্রাউজার ফায়ারফক্সের প্রতিষ্ঠান মজিলা করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ২৪ মার্চ নিয়োগ দিয়েছিল। মজিলা ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্র্যান্ডন ২০০৫ সাল থেকে মজিলার প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে জানা যায়, ব্রেন্ডন ২০০৮ সালে সমকামী বিয়ের বিরুদ্ধে থাকা ‘প্রোপোজিশন ৮’ নামের একটি কার্যক্রমে এক হাজার ডলার দান করেন। তাকে সিইও ঘোষণা করার পর সমকামী সম্প্রদায় প্রতিবাদ করে। নিজেদের ব্লগে সব সদস্যকে ফায়ারফক্স ব্রাউজার ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানায়। পরবর্তী সময়ে মাত্র ১১ দিনের মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের কথা জানান আইচ। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদ থেকেও পদত্যাগের কথা জানান তিনি।
