প্রজন্মের পরামর্শ

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৩৬
নেভাল আর্কিটেকচার প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জের মধ্যে নিজেকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ যে পেশায় রয়েছে, সেই পেশার প্রতি প্রজন্মের আগ্রহ বরাবরই বেশি। নেভাল আর্কিটেকচার এমনই একটি পেশা। তাই এবার এই পেশা সম্পর্কে তথ্যসহ প্রজন্মকে নানা পরামর্শ দিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যাল (বুয়েট)-এর নেভাল আর্কিটেকচার বিষয়ের প্রভাষক শারমিন শবনম বিশ্ববাণিজ্যের ক্ষেত্রে জাহাজ হচ্ছে পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এজন্য বাণিজ্যের বিকাশের সাথে সাথে জাহাজ নির্মাণ শিল্প একটি সম্প্রসারণশীল ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের দেশও বিশ্বমানের সমুদ্রগামী জাহাজ এমনকি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পের মতো দক্ষ কারিগরি বিদ্যাসমৃদ্ধ নেভাল আর্কিটেকচারেও এদেশের ভালো করার অনেক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এর জন্য নতুনদের এই বিষয়টিতে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়া দরকার। কেননা নেভাল আর্কিটেকচার খাতটি আমাদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় খাত। প্রজন্মের জন্য গ্রন্থগত জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি ঢাকার আশপাশের নানা জাহাজ তৈরির জায়গাগুলো ঘুরে প্র্যাকটিক্যাল বিষয়গুলোতে পারদর্শিতা বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত এবং এই খাতে কীভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো যায় সেটি বের করার চেষ্টা করতে হবে। নেভাল আর্কিটেকচার বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে বাংলাদেশের পোর্টগুলোতে, জাহাজ তৈরির কারখানাগুলোতে, বিআইডব্লিউটিএ, ক্লাসিফিকেশন সোসাইটিসহ নানা ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে। নেভাল আর্কিটেক্টদের কাজের সুযোগ শুধু এদেশে নয়, দেশের বাইরেও রয়েছে। বুয়েট থেকে পড়ে অনেকেই ভারত, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, আমেরিকাসহ পৃথিবীর নানা দেশে উচ্চবেতনে কাজ করছে। === ব্যাংকিং সেক্টর নির্ভরযোগ্য পেশা হিসেবে ব্যাংকিং সেক্টর এরইমাঝে প্রজন্মের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। অর্থব্যবস্থাপনার এই সেক্টরটি দিন দিন আরও বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। সুতরাং এই সেক্টর নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ঘুরপাক করে প্রজন্মের মনে। এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে এবার কথা বলেছেন ব্যাংক এশিয়ার ফার্স্ট অ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম খান ব্যাংকে চাকরি করার স্বপ্ন আগের প্রজন্ম খুব কমই দেখত, কিন্তু ইদানীং এর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। কারণ, ব্যাংকের সংখ্যার পাশাপাশি ব্যাংকারদের নানা সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। ফলে ব্যাংকিং নিয়ে না পড়েও এই প্রজন্মের অনেকেই এ পেশার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। কর্ম চাহিদার দিক দিয়ে তাই ব্যাংকিং সেক্টর অনেক এগিয়ে। বর্তমানে ব্যাংকিং আধুনিক রূপ ধারণ করেছে। বেড়েছে কম্পিউটার, নানা ধরনের সফটওয়্যারের ব্যবহার। ফলে এখানে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্নদের চাহিদা অনেক বেশি। আরও যেই বিষয়টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয় সেটি হচ্ছে ইংরেজিতে বেশি পারদর্শিতা অর্জন। যেকোনো বিষয় নিয়ে পড়েই ব্যাংকিংয়ে ঢোকা যায়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভালো ফলাফল চাকরি পাওয়ার সুযোগকে ত্বরান্বিত করে। পড়াশোনা করার সময় ‘গ্রুপ স্টাডি’র প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে, এতে করে অন্য মানুষের সাথে কথা বলার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়েই এই সেক্টরে ঢোকা গেলেও সাধারণত আইবিএ, বিবিএ বা যেকোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে। চাকরি পাওয়ার কিছু দিনের মাথায় অনেকে একঘেয়েমিতে ভোগে, চাপ সহ্য করতে পারে না, নিয়মিত পরিশ্রম করতে পারে না। কিন্তু নিজের কাজের প্রতি সত্ থেকে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করে ও আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের কাজ করার মাধ্যমে ব্যাংকিংয়ে ভালো করা সম্ভব।