ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি আর ছোট বাচ্চাকে দেখাশোনা-এই দুটোর মধ্যে যেকোন একটিকে বেছে নেয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হল। কারণ প্রতিদিনই কাজের লোকের কাছে ছেলেটি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। গড়ে ওর গায়ের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ১০৬ ডিগ্রী হয়। শুরুর দিকে আমি আমার স্বামী পর্যায়ক্রমে একদিন করে বাসায় থেকেছি। তাতেও উন্নতি নেই। আর এভাবে সম্ভবও না। তাই আমাকেই চাকরি ছাড়তে হল। অনেক কষ্ট ছিল। কখনো ছেলেকে কোলে নিয়েই বিষাদগ্রস্ত হয়েছি। এক সময় ও ভাল হয়ে উঠেছে। আমারও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাক পড়েছে। আগেই আবেদন করা ছিল। তারপর আবার কর্মজীবন। এভাবেই নিজের মাতৃত্ব আর ক্যারিয়ারের মধ্যে সমঝোতা করে এগিয়ে এসেছেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহিদ সুলতানা সুরভী। সুরভী আজ সংসার, দুই ছেলে আর পেশাকে সামাল দিয়ে রেডিও-টিভিতে তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে গান করেন। যা চালিয়ে নেয়া কষ্টকর হলেও গানের প্রতি অপার ভালবাসা তাকে সম্ভব করে তোলে।
দুই বোনের সংসারে সুরভী বড়। বাবা-মা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করতেন। মা-ই চাইতেন পড়াশোনার পাশাপাশি মেয়েদের সাংস্কৃতিক চর্চা থাকুক। সুরভীর ছেলেবেলা কেটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সেখানের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তাকে বেশ প্রভাবিত করে। ছেলেবেলায় কচি-কাঁচার মেলায় প্রতিযোগিতায় তিনি একবার চ্যাম্পিয়ন হন। যা দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে তাকে। তাই আজও শত ব্যস্ততার মধ্যে হারমোনিয়াম নিয়ে নিয়ম করে বসেন। সুরভী বরাবরই ভাল রেজাল্ট করেছেন। স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় তিনি কলা ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সর্বোচ্চ মার্কস পেয়ে প্রথম হন। এরপরই শারীরিক অসুস্থতার জন্য চিকিত্সক বিয়ের পরামর্শ দেন। পারিবারিকভাবে সে সময় বিয়ে হয় চিকিত্সক সামসুজ্জামানের সাথে। পরে সন্তানসম্ভবা হলে মাস্টার্স পরীক্ষাও চলে আসে। সুস্থ-স্বাভাবিক সন্তান জন্ম দেয়া আর আগের ফলাফল ধরে রাখা তখনকার চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বাবা-মা আর স্বামীর সহযোগিতায় সেই পরীক্ষায়ও সুরভী প্রথম হন। সুরভি বলেন, বাবা-মা আর স্বামীর সহযোগিতা থাকলেই মেয়েদের কিছু করার সুযোগ তৈরি হয়। আজ অবসরপ্রাপ্ত বাবা-মা তার সঙ্গেই আছেন। তাকে সহযোগিতা করে এগিয়ে দিতে। সুরভী বলেন, আমাদের সমাজে এটাও একটা বাধা। বাবা-মা মেয়ের বাড়িতে থাকতে পারবে না। আমার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি সবাই আমাকে এই বিষয়ে সহযোগিতা করেছেন।
