গলাচিপার তরমুজ ব্যবসায়ী ও চাষিরা চাঁদা দিচ্ছে ঘাটে ঘাটে

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৩০
গলাচিপার বিভিন্ন সড়কে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে তরমুজ চাষি ও ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। যানবাহনের প্রকারভেদে ২ হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। গলাচিপা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও চিকনিকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ হোসেন বাদল জানান, এ ধরনের চাঁদা আদায়ের কোন তথ্য জানা নেই। তবে কেউ যদি জড়িত থাকে দলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র জানায়, তরমুজ ব্যবসায়ীরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে তরমুজ কিনে ট্রাকযোগে ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, নরসিংদী, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে চালান করে। এছাড়া কৃষকরা বেশি লাভের আশায় তাদের উত্পাদিত তরমুজ নিজেরাই বিভিন্ন মোকামে নিয়ে বিক্রি করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, পৌর এলাকার ফেরিঘাট, হরিদেবপুর ফেরিঘাট, ডিগ্রি কলেজের উত্তরপাশের বেড়িবাঁধ, কালিকাপুর, আমখোলা বাজার, মুশুরিকাঠি স্লুইসগেট, পানপট্টি লঞ্চঘাট, পক্ষিয়া লঞ্চঘাট, বোয়ালিয়া স্লুইসগেট, বদনাতলী লঞ্চঘাট, চিকনিকান্দি, খারিজ্জমাসহ কমপক্ষে ১৫টি স্পটে যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চাঁদা দিতে হয়। তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দিলে তরমুজ ভর্তি যানবাহনের চাকা ঘুরতে পারে না। উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও বর্তমানে বাজার দর পড়ে যাওয়া ও ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিতে গিয়ে তরমুজ চাষি ও ব্যবসায়ীরা হয়ে পড়েছেন দিশেহারা। তারা অনেকে এখন লাভের আশা ছেড়ে দিয়ে লোকসানের আশংকায় রয়েছেন। গলাচিপা থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানান, এ ধরনের চাঁদাবাজির কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান।