২৪ এপ্রিল গার্মেন্টস শিল্পে শোক দিবস পালনের আহবান

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২৪
আসছে ২৪ এপ্রিল গার্মেন্টস শিল্পে শোক দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্পরক্ষা জাতীয় মঞ্চ’ নেতৃবৃন্দরা। তারা ২৪ এপ্রিলের আগেই রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পাওনা ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য মালিক ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সেইসঙ্গে রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের কল্যাণে গঠিত ‘ট্রাস্ট ফান্ডে’ টাকা জমা দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিও তারা আহ্বান জানান। গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর শহীদ আসাদ মিলনায়তনে ‘গার্মেন্টস শিল্পের বর্তমান অবস্থা ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের সমন্বয়কারী শামীমা আখতার শিরীন। সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, শহীদুল্ল¬াহ বাদল, লাভলী ইয়াসমিন, আব্দুল ওয়াহেদ, শফিকুল ইসলাম, তপন সাহা, সুলতানা আক্তার, রাবেয়া আক্তার রানী, মো. সেলিম প্রমুখ। শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন ‘পোশাক শিল্পের বিকাশ ও বর্তমান অবস্থা’ বিষয়ক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করনে। এতে তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্প হাঁটি হাঁটি পা পা করে তিনযুগ অতিক্রম করেছে। এই তিনযুগে এই শিল্পটি দেশের জাতীয় অর্থনীতির গতি সঞ্চালনের অন্যতম নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বক্তারা বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। গত বছর রানা প্লাজা ও তাজরীন দুর্ঘটনার পর এই সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। এই সংকটকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি একটি মহল পোশাক শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। সম্প্রতি এ্যাকর্ড-এলায়েন্স আবির্ভূত হওয়ায় বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিক ও মালিকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বক্তারা গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা, অধিকার নিশ্চিত করতে দেশের শ্রম আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, শ্রম আইন বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে দেশি-বিদেশি চক্র এই ষড়যন্ত্রের সুযোগ পাচ্ছে। বক্তারা মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন এবং দেশের আইন মেনে চলার কোন বিকল্প নেই। বক্তারা এই সংকট মোকাবিলায় শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।