লংমার্চের মাধ্যমে সরকার বিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি। দু’দিনের এই কর্মসূচির সূচনা হবে আগামীকাল। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতারা গাড়িবহর নিয়ে যাত্রা শুরু করবেন সকাল ৮টায় নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্মুখ হতে। গাজীপুর,টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, নাটোর, রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, সৈয়দপুর, পঞ্চগড়সহ ১৮ টি জেলা অতিক্রম করে ২৩ এপ্রিল লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজের পাশে জনসভা করবে বিএনপি। যাত্রাপথের জেলাগুলোর নেতা-কর্মীরা যোগ দিবেন এই লংমার্চে।
দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান,এই লংমার্চের ভেতর দিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চায় দলটি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী বিএনপিতে যে হতাশা ভর করেছে তা এই লংমার্চের ভেতর দিয়ে অনেকটা কেটে যাবে বলে মনে করছেন হাইকমান্ড।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সামনে লক্ষ্য দুইটা। একটি হচ্ছে সরকারকে বাধ্য করা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। আরেকটি হচ্ছে তিস্তাসহ ৫৪ টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের লড়াই। তিনি বলেন, আমাদের লংমার্চ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য পানির দাবি নিয়ে লংমার্চ। আশা করছি এই লংমার্চে সারাদেশের মানুষ যোগ দিবেন। ইতিমধ্যে সাড়া পড়ে গেছে। তিনি বলেন, সরকার যদি আমাদের এ লংমার্চে বাধা দেয় তাহলে জনগণই প্রতিরোধ করবে।
ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিএনপির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো নেতাদের নিয়ে প্রস্তুতি সভাও করেছে। তিস্তা অভিমুখে বিএনপির লংমার্চে জনগণের অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে দলটি।
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, লংমার্চটি ঢাকা মহানগর হয়ে গাজীপুরের টঙ্গী, কোনাবাড়ি হয়ে কালিয়াকৈরে প্রথম পথসভা করবে। এরপর টাঙ্গাইল বাইপাস মোড়ে পথসভা শেষে যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে পথসভা করা হবে। এ ছাড়া ২২ এপ্রিল বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে পথসভা করে ওই দিন বিকালে রংপুর গিয়ে অবস্থান করবে লংমার্চ। পর দিন ২৩ এপ্রিল সকাল ৯টায় রংপুরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে ১১টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়ায় সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শেষ হবে। এই লংমার্চে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯ দলের নেতারাও যোগ দিবেন।
ক্ষমতার জন্য নয়
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা ভাগাভাগির জন্য নয়, জনগণের কল্যাণের জন্য। কিন্তু তিস্তা নিয়ে শাসক গোষ্ঠীর কোনো চিন্তা নেই।
রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে গতকাল বিকালে ‘তিস্তা নদীর পানি বন্টন প্রেক্ষিত বাংলাদেশে’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন। বিএনপি এ আলোচনার আয়োজন করে।
