রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিত্সকদের সাথে রোগীর স্বজনদের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। মামলা দুটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান দুই মামলার বাদির জবানবন্দি গ্রহণ শেষে এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ২৮ মে ধার্য করেন।
এর আগে সকালে বারডেম হাসপাতালের চিকিত্সকদের ওপর হামলা ও হাসপাতালে ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে হাসপাতালটির সিনিয়র নিরাপত্তা সুপারভাইজার মানিক মোল্লা বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-সহকারী কমিশনার (এডিসি) এবিএম মাসুদ হোসেন, প্রাক্তন শ্রম প্রতিমন্ত্রীর এপিএস ইসহাক হোসেন বাবু, মৃত রোগীর মেয়ে ফারহানা নাসরিন এবং ইষ্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বিবিএ-র ছাত্র আবির হোসেনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে বারডেম হাসপাতালের তিন চিকিত্সকসহ ৫ জনকে আসামি করে ওই ঘটনার শিকার মৃত সিরাজুল ইসলামের মেয়ে ফারহানা নাসরিন বাদি হয়ে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় হাসপাতালের চিকিত্সক আজাদ, আনোয়ার হোসেন, কল্যাণ দেবনাথ, জনৈক শামীমা আক্তার ও ফিরোজ আমিনকে আসামি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ এপি ল রাতে বারডেমের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সিরাজুল ইসলাম মারা যান। চিকিত্সকদের অবহেলায় এ মৃত্যু হয়েছে-এমন অভিযোগে নিহতের স্বজনরা ওই পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর ও চিকিত্সকদের মারধর করেন। এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে চিকিত্সকরা গত মঙ্গল ও বুধবার কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এ কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা। বুধবার বিকেলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে নেয়া হলে চিকিত্সকরা কর্মবিরতি স্থগিত করে কাজে যোগ দেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বারডেমে নিয়মিত চিকিত্সাসেবা শুরু হয়। তবে গতকাল রবিবার চিকিত্সকদের কালো ব্যাজ ধারণ করে রোগীদের সেবা দিতে এবং এক ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করতে দেখা গেছে।
