সীমাবদ্ধতার মাঝেও লাভজনক কর্ণঝোড়া রাবার প্রকল্প

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৪, ২১:২৬
প্রয়োজনীয় ভূমি, জনবল ও বিদ্যুত্ ছাড়াই শেরপুর সীমান্তে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের কর্ণঝোড়া রাবার প্রকল্পটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। গত ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে এ বাগান থেকে নীট ৪২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। রাবার বাগানটির আয়তন, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি ও বিদ্যুত্ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হলে প্রকল্পটিকে আরো লাভজনক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শেরপুর জেলা শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরবর্তী শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকায় নব্বই দশকে কর্ণঝোড়া রাবার প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয়। এর বর্তমান আয়তন ৬২৫ একর। পাহাড়ি টিলা সমৃদ্ধ এ জমিতে বর্তমানে ৫২ হাজার গাছ রয়েছে। এর মধ্যে উত্পাদনশীল গাছের সংখ্যা ৪১ হাজার। ২০০৫-২০০৬ সাল থেকে এখানে রাবার উত্পাদন শুরু হয়। উত্পাদন শুরুর প্রথম অর্থ বছরে ৫৫ হাজার ৬৫৮ কেজি রাবার উত্পাদন হয়েছিল। ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে এ বাগান থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কেজি রাবার পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে কর্ণঝোড়া রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, এ প্রকল্প থেকে গত ৫ বছরে ১ কোটি ৫১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নীট লাভ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে এ বাগানটি আয়তনের দিক থেকে খুবই ছোট। এর আয়তন কমপক্ষে ১২শ একর হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে এ বাগানটির আয়তন ৬২৫ একর হলেও ১৩০ একর জমির মাটি রাবার চাষের জন্য অনুকূল নয়। এ জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়াও বন বিভাগ কর্তৃক কর্ণঝোড়া রাবার বাগানের অনুকূলে ৬০ একর জমি কাগজপত্রে প্রদান করা হলেও ডুমুরতলা বিট অফিস ঐ জমিতে অন্য বাগান সৃজন করেছে। অপরদিকে রাবার বাগান এলাকায় বহিরাগতরা অবৈধভাবে ১১৫ একর জমি জবর দখল করে বাড়ি-ঘর তৈরিসহ চাষাবাদ করছে। প্রকল্পটির স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের অন্যত্র পুনর্বাসন করে এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করেন কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে এ বাগানে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ৩৩ জন সার্বক্ষণিক জনবলের প্রয়োজন, সেখানে মাত্র ১২ জন কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে রাবার উত্পাদনের জন্য মাটির দেয়াল ঘেরা ধুমঘর রয়েছে। প্রতিবছরই এটা মেরামত করতে হয়। কর্তৃপক্ষের মতে এখানে মাটির ধুমঘরের পরিবর্তে ৪/৫ টন রাবার ধুমায়ন করা যায় এমন পাকা আধুনিক ধুমঘর নির্মাণ করা প্রয়োজন। এছাড়া ইউনিয়ন ও উপজেলার সঙ্গে এ বাগানের সংযোগ রক্ষাকারী সড়কসমূহ যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক সমস্যারও সমাধান প্রয়োজন।