চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল অযত্ন-অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের বারান্দায় ফেলে রাখা ফলাফল শীটে ময়লার স্তর জমেছে। এসব তথ্য বিধিমোতাবেক সঠিকভাবে সংরক্ষণেরও কোন উদ্যোগ নেই কমিশনের।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘জায়গা সংকটের কারণে এমনটা হতে পারে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংরক্ষণ করার কারণে জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। তবে দ্রুত ফলাফলগুলো সংরক্ষণ করা হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শেরেবাংলা নগরে ইসি সচিবালয়ের ৫নং ব্লকের প্রবেশ মুখের বারান্দায় ফেলে রাখা হয়েছে সদ্য শেষ হওয়া চতুর্থ উপজেলা পরিষদের পাঁচ ধাপের ফলাফল। বিশাল স্তূপে ফলাফল শিটগুলো অযত্নে ময়লা পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গত ২৩ মার্চ চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জের চৌহালী, পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত নরসিংদী সদর উপজেলার ফলাফল শিটে ময়লার স্তূপ রয়েছে। কমিশন থেকে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। রিটার্নিং অফিসারের পাশাপাশি ইসি সচিবালয় পৃথকভাবে ফলাফল সংরক্ষণ করে থাকে। বেসরকারিভাবে প্রতিটি উপজেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ঘোষণার পর তার অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে থাকেন। আর এসব ফলাফলই অবহেলায় পড়ে আছে কমিশনে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাঁচ ধাপে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কমিশনের যে গাফিলাতি ছিল, ফলাফল উন্মুক্তভাবে ফেলে রাখার মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হয়েছে। এভাবে ফলাফল ফেলে রাখা দায়িত্বহীন কাজ। অবিলম্বে ফলাফলগুলো সংরক্ষণ করা উচিত।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, আইনগতভাবে কমিশনের এই ফলাফল সংরক্ষণে বাধ্য। কোন আইনী জটিলতা দেখা দিলে ওই ফলাফলের প্রয়োজন দেখা দেবে। কমিশনের স্বার্থে ওই ফলাফলের প্রয়োজন রয়েছে। অথচ এইভাবে ফলাফল ফেলে রাখা সমীচীন নয়।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু হয়ে ৪৮৭টি উপজেলার মধ্যে পাঁচ ধাপে এ পর্যন্ত মোট ৪৫৯টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপ, ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ১৫ মার্চ তৃতীয় ধাপ, ২৩ মার্চ চতুর্থ ধাপ এবং ৩০ মার্চ পঞ্চম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১৯ মে আরো ১৪টি উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকি উপজেলায় সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও মেয়াদ শেষ না হওয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
