তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পানির জন্য হাহাকার

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৪
দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পানির জন্য চারদিকে হাহাকার উঠেছে। তিস্তা নদীতে পানি নেই। ক্যানালে পানি নেই। পানির জন্য কৃষকদের সড়ক অবরোধ কোন কাজে আসছে না। পানির জন্য ইতিমধ্যে সড়ক অবরোধ, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, ডিসি অফিস ঘেরাও করেছে কৃষক ও এলাকার মানুষ। আইন-শৃখংলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে লাঠিপেটাও খেয়েছে কৃষক। গতকাল সোমবার সকালে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের পয়েন্টে পানি প্রবাহমাত্রা ছিল ৪৫০ কিউসেক। অথচ প্রয়োজন ৩ হাজার কিউসেকের ওপরে। পানির অভাবে প্রধান ও শাখা সেচ নালা এলাকার আশপাশের কৃষকরা জমি তৈরি করতে পারছে না। ফলে বোরো আবাদ প্রকল্প এলাকায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কৃষকরা পানির জন্য হাহাকার করছে। গজলডোবা ব্যারেজ দিয়ে পানি সরিয়ে নেয়ায় তিস্তার বাংলাদেশ অংশ মরে গেছে। অকার্যকর হয়ে পড়েছে দেশের বৃহত্তম তিস্তা সেচ প্রকল্প। আওতাধীন ৬০ হাজার ৫০০ হেক্টর বোরোর জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অথচ প্রয়োজন ৩ হাজার কিউসেকের ওপরে। পানির অভাবে প্রধান ও শাখা সেচ নালা এলাকার আশপাশের কৃষকরা জমি তৈরি করতে পারছে না। ফলে বোরো আবাদ প্রকল্প এলাকায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ব্যারেজ সূত্রে জানা গেছে,ভারত কর্তৃক তিস্তার গজল ডোবা ব্যারেজের সব গেট বন্ধ করে দেয়ায় তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে সেখানে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার কিউসেক পানি থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৪’শ থেকে ৫’শ কিউসেক। যা চাহিদার তুলনায় মাত্র ৬ ভাগের এক ভাগ। ফলে আওতাধীন উত্তরাঞ্চলের ৩ জেলার ১২ উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার ৫’শ হেক্টর জমির বোরোর চারা সেচের অভাবে মরে যাচ্ছে। অসহায় কৃষকরা পাউবো কাছে ধর্ণা দিয়ে পানি পাচ্ছে না। পানির দাবিতে কৃষকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে , তিস্তা এখন অনেকটাই মরা খাল। ডালিয়া পয়েন্ট থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার এখন ধু ধু বালুচর। পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়। তিস্তার মরণদশার একমাত্র কারণ পানি নিয়ে কোন চুক্তি না হওয়া। ভারত নীলফামারীর ডালিয়ার তিস্তা ব্যারেজের ১০০ কিলোমিটার উজানে কুচবিহার জেলার মেকলিগঞ্জ থানার গজলডোবা নামক স্থানে ব্যারেজ দিয়ে তিস্তার পানি এক তরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প সূত্র জানায়, সেচ প্রকল্প এলাকায় সেচ দেয়া এবং নদীর প্রবাহমাত্রা ঠিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে স্বাভাবিক প্রবাহমাত্রা থাকা প্রয়োজন ২০ হাজার কিউসেক পানি। শুধু সেচ প্রকল্প চালাতেই প্রবাহমাত্রা থাকা প্রয়োজন ১৪ হাজার কিউসেক এবং নদীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজন চার হাজার কিউসেক পানি। কিন্তু ডিসেম্বর মাসের পর থেকে তিস্তায় পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। শুধু তাই নয়, বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানির কারণে ব্যারেজ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ফসল ও বাসাবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ে। ভারত তখন সব গেট খুলে দেয়। এতে ব্যারেজের ৪৪টি গেট ২৪ ঘন্টা খুলে দিয়ে পানি সরানো সম্ভব হয় না। এই অতিরিক্ত পানি অপসারণের জন্য প্রকল্পের উত্তরে ৬১০ মিটার একটি খাল নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৮ সালে বন্যায় এই খাল ধ্বংস হয়ে অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদিকে আজ মঙ্গলবার ঢাকা থেকে বিএনপি নেতৃবৃন্দ লংমার্চ সফল করতে রংপুরে আসছেন। রাতে রংপুরে অবস্থান করে কাল বুধবার সকালে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে জনসভা শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা নীলফামারীর ডালিয়া অভিমুখে রওনা হবেন।