পানিশূন্য পাবনার ২০ নদী!

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৬
ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের নদ-নদী ও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। শুধু পাবনা জেলাতেই শুকিয়ে গেছে ২০টি নদী। এর মধ্যে ৬টি নদী একেবারে বিলীন হয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে। বিলীন হওয়া নদীতে এখন বিভিন্ন মৌসুমী ফসল উত্পাদন হচ্ছে। অনেকে জবর দখল করে বাড়ি-ঘরও নির্মাণ করেছেন। স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে, জেলার পানিশূন্য নদীগুলো হলো- কাগেশ্বরী, সুতিয়ালী, বান্নাই, চন্দ্রবতি, বড়াল, হুরা সাগর, রত্নাই, ইছামতি, আত্রাই, গুমানী, জলকা, গুহালী, শালিক, চিকনাই। আর বিলীন হওয়া নদীগুলো হলো- কমলা, শানসাডাঙ্গী, ভাংগুড়া ইছামতি, রত্নবাড়ী ও টেপাবাড়ী। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে পদ্মা নদীতে পানিশূন্যতার কারণে এ বিপর্যয় হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবেশগত হুমকির মুখে রয়েছে পদ্মার পাড়ে ৬ জেলার ২ কোটি মানুষ। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কর্মকর্তারা সম্প্রতি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে পদ্মার পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করেছেন। তবে পানি চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো বছরই বাংলাদেশ তার ন্যায্য হিস্যা পায়নি। ফলে ফারাক্কার প্রভাবে পদ্মা নদী বেষ্টিত পাবনাসহ ৬ জেলায় মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরেজমিন শিলাইদহ ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, পদ্মা নদীর মাঝখানে এবার বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করছে দুই পারের মানুষ। নৌকা চালানোর মতো পানি নাই এই পয়েন্টে। পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর পয়েন্টে মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করছে। পা ভিজানোর মতো পানি পদ্মার মাঝখানে নেই। অথচ এলাকার প্রবীণ লোকেরা জানিয়েছেন, ফারাক্কা বাঁধের আগে এখানে সারা বছর খেয়া নৌকার মাধ্যমে পারাপার চলতো। শুধু নদী নয়, শুকিয়ে গেছে পাবনার খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়ও। চলছে পানির জন্য হাহাকার। তীব্র খরায় জেলার চরাঞ্চলের হাজার হাজার বিঘা জমির চিনাবাদাম ও তিল পুড়ে যাচ্ছে এবং আম, জাম, লিচুসহ বিভিন্ন গাছের ফল শুকিয়ে অসময়েই ঝরে পড়ছে। পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় জেলায় সরকারি পর্যায়ের ১৭ হাজার এবং বেসরকারি পর্যায়ে ১ লাখ ২৫ হাজার নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। ফলে পাবনা শহরসহ জেলার সর্বত্র বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।