মোদী ক্ষমতা পেলে বিপাকে পড়বে তিন রাজ্য সরকার

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৬
ভারতে চলতি লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় গেলে তিন রাজ্য সরকার বিপাকে পড়তে পারে। এই রাজ্যগুলোতে অ-বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আছে। যদিও বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিং বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে তারা প্রতিহিংসাবশত কিছু করবেন না। রাজ্যগুলো হলো, বিহার, ঝাড়খন্ড এবং উত্তরখন্ড। এছাড়া ভারতের রাজধানী ইউনিয়ন টেরিটোরি দিল্লি আছে যেখানে বর্তমানে প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার বিদ্যমান। ক্ষমতায় যাওয়ার পর কিংবা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনেক ভাঙ্গা গড়ার খেলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০০৮ সালে কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং অন্যান্য দল থেকে অনেকে পদত্যাগ করেছিলেন এবং তারা বিজেপির টিকিটে নির্বাচন করেছিলেন। কারন এর পরের বছর দেশটিতে লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজেপি ক্ষমতায় আসবে বলে বিভিন্ন জরিপে পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। যদিও সেইসব জরিপকে ভ্রান্ত প্রমাণ করে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চাই (ইউপিএ) দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে। বিজেপি প্রেসিডেন্ট রাজনাথ সিংয়ের কথায়ও এ ধরনের পরিবর্তনের কিছু আভাস পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, আমরা কোনো গণতান্ত্রিক সরকারকে ভেঙ্গে দেব না। তবে যদি সরকারের অভ্যন্তরে কোনো সমস্যা হয় সেই বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হবে। কোনো দলের নেতা-কর্মীদের বাগে এনে কিছু করা আমাদের দলের আদর্শ নয় উল্লেক করে তিনি বলেন, যদি কেউ হতাশ হয়ে স্বেচ্ছায় আসতে চায় তাহলে কিছু করার থাকবে না এবং সেই সম্ভাবনা উড়িয়েও দেওয়া যাচ্ছে না। বিহার রাজ্যের বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রতিশোধের স্পৃহা আছে। তারা বর্তমানে ক্ষমতাসীন জনতা দলের (ইউনাইটেড) ওপর প্রতিশোধ নিতে চায়। কারন গত ১৭ বছর ধরে জনতা দল (ইউ) বিজেপির সঙ্গে ছিল। ২০১০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জনতা দল (ইউ) বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) ছাতার নীচে একসঙ্গে নির্বাচন করে। এতে জনতা দল (ইউ) ১১৩টি আসনে এবং বিজেপি ৯১টি আসনে জয়ী হয়। কিন্তু গত বছর বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীকে ঘোষণা করার প্রতিবাদে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং জনতা দলের নেতা (ইউ) নিতিশ কুমার এনডিএ থেকে বের হয়ে যান। জরিপে দেখা গেছে, চলতি লোকসভা নির্বাচনে জনতা দল (ইউ) ৫ থেকে ৬টি আসন পেতে পারে। আর জনতা দলের কয়েকজন নির্বাচনে জিতলেও পরে বিজেপিতে যোগদান করতে পারেন বলে বিজপি সূত্র জানিয়েছে। দলটির নেতারা বলেছেন, অনেকেইে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে দিল্লিতেও। আম আদমি পার্টি গত ডিসেম্বরের বিধানসভার নির্বাচনে বিজয়ী হয়। কংগ্রেসের সহায়তায় সরকারও গঠন করে। কিন্ত পরে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল পদত্যাগ করেন। এরপর এখানে সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের শাসন জারি করা হয়। ঝাড়খন্ডে বর্তমানে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট আছে। বিজেপি ক্ষমতায় গেলে এখানেও আসতে পারে পরিবর্তন যা বিজেপির পক্ষে যাবে বলেই ধারনা করা হচ্ছে।