দলীয় নেতাদের ‘বিপুল অংকের টাকা দিয়ে’ও শেষ পর্যন্ত একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ায় প্রকাশ্যে অভিযোগ এনে গত কয়েকদিন ধরেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) বেশ ক’জন নেতা। রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনেই তারা দলের দু’তিনজন নেতার নাম ধরে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে বর্তমান সংসদের সদস্যও রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ টাকা গ্রহণকারী নেতার নাম উল্লেখ করে টাকা ফেরত্ দেওয়ার দাবিও জানাচ্ছেন।
নীলফামারী-৪ আসনে জাপার বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ শওকত চৌধুরী গতকাল বুধবার সকালে বনানী পার্টি অফিসে এসে হইচই করে বলেন, ‘মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নেতা ও আমার কাছ থেকে পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব মোটা অংকের চাঁদা নিয়েছেন। চেয়ারম্যানকে ৬০ লাখ টাকা দেওয়ার পরও আমার মনোনয়ন নিয়ে টালবাহানা হচ্ছে।’ ক্ষুব্ধ শওকত আরো বলেন, ‘আমি দেখে নেব। আমার টাকা ফেরত্ দিতে হবে।’ পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এরশাদ সাহেব একবার বলছেন এককভাবে নির্বাচন করব, আরেকবার বলছেন মহাজোটে যাব। এভাবে দল হয়? দলটাকে নষ্ট করে ফেলেছেন। দলটাকে কক্ষচ্যুত করেছেন তিনি নিজেই।’ উল্লেখ্য, এই আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন এরশাদের ভাগিনা আদিলুর রহমান।
গাজীপুর-৫ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন গাজীপুর মহানগর জাপার সহ-সভাপতি গাজী ওবায়দুল কবির মজনু। গতকাল পার্টি অফিসে এসে মজনু বলেন, ‘মনোনয়ন ফরমের দাম ২০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২২ হাজার টাকা নিয়েছে। তারপর আবার দুই হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে এক কোটি টাকা চেয়ে অনেকের কাছে মনোনয়ন বিক্রি করছে। তাহলে উনার (এরশাদ) মত নেতার কাছে আমি কেন আসব? আমার আসন থেকে মেহের আফরোজ চুমকি মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন। আমি তার জন্য কাজ করব।’
জাপার কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর-৫ আসনে দলীয় প্রার্থিতার আবেদনপত্র সংগ্রহ করা সোলায়মান সামি, চট্টগ্রাম মহানগর জাপার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের শেখ শরিফুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী কাজী মামুনুর রশীদ এবং জয়পুরহাট-২ আসনের আবুল কাশেম রিপনও দলীয় কয়েক নেতার বিরুদ্ধে ‘মনোনয়ন বাণিজ্যের’ অভিযোগ করেন। এদের বেশিরভাগেরই অভিযোগ, জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার মহাজোট থেকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছেন।
গতকাল জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এটা কোনো একটি স্থান থেকে এসেছে, আমাকে ও দলকে হেয় প্রতিপন্ন করতে।’
এরশাদের অসুস্থতা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য: এদিকে জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ এখনও ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিত্সাধীন। এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘এটা এমন কিছু নয়।
তবে এরশাদের ব্যক্তিগত সচিব ও ভাতিজা জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালেদ আখতার গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের ডাক্তারের সময়সূচি পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সময়সূচি পেলে স্যারকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হতে পারে।’
