দু’বছর বয়সী চেসন বেসিনোর কিডন্যাপ হওয়ার সংবাদটি যখন প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের মুলিন্স শহরের পুলিশের কানে আসে তখন তারা বেশ ভালোভাবেই জানতেন যে এ ধরনের কেসে প্রতিটি মুহূর্তই কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই অজ্ঞাতনামা এক তরুণী যখন পুলিশকে জানান যে তিনি চেসন নামের একটি শিশুকে স্থানীয় একটি মার্কেটের কারপার্কিং এলাকা থেকে কিডন্যাপ করা হয়েছে তখন বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করেই গোয়েন্দাদের সহায়তা নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন তারা। নানা সন্দেহ আর সংশয় মাথায় নিয়ে সম্ভব সব জায়গাতেই চলতে থাকে হারিয়ে যাওয়া চেসন বেসিনোর সন্ধান। এমনকি শিশুটি কাছের একটি লেকে ডুবে গিয়ে থাকতে পারে এমন ধারনার বশবর্তী হয়ে প্রশিক্ষিত ডুবুরী দিয়ে সন্ধান চালানো হয় লেকের পানিতেও। এমন অবস্থায় বেসিনোর পরিবারের সদস্যদেরকে সবেচয়ে খারাপ কিছুর জন্যই প্রস্তুত থাকার কথা জানাতে চেয়েছিলেন মুলিন্স পুলিশের বড়কর্তারা। কিন্তু চেসনের বাবা-মা’কে এই সংবাদটি জানাতে গিয়েই নতুন আরেক বিপত্তিতে পড়েন তারা। কেননা চেসন বেসিনো তো দূরে থাক এই নামে কোনো শিশু বা তার বাবা-মায়ের কোনোটারই সন্ধান মিলছিল না পুলিশের সম্ভব সকল অনুসন্ধানে। এরই প্রেক্ষিতে একসময় তদন্তকারী একজনের চোখে পড়ে চেসন ও তার পরিবারের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের। আর এইসব অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে আরও খোঁজ-খবর নিতেই বেরিয়ে আসে ভিন্ন আরেক তথ্য। তদন্তকারীরা আবিষ্কার করেন ফেসবুকে এই পরিবারের পূর্ণ উপস্থিতি থাকলেও বাস্তবে আদৌ এই নামের কারও অস্তিত্ব কিংবা তাদের প্রোফাইলে বর্ণিত ঠিকানার অস্তিত্ব নেই। এমনকি অস্তিত্ব নেই চেসন বেসিনো কিংবা তার কথিত বাবা-মায়েরও। এ বাস্তবতাতে এখন উল্টো কিডন্যাপিংয়ের অভিযোগ করা সেই মহিলাকেই তদন্তের আওতায় আনার চেষ্টা করছে মুলিন্স শহরের পুলিশ।
