চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশে তৈরি হতে যাচ্ছে উন্নতমানের প্রায় নয় কোটি জাতীয় পরিচয়পত্র। ভোটারদের কাছে বিনামূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির তথ্যসমৃদ্ধ এই পরিচয়পত্র পৌঁছাতে চায় কমিশন। টেকসই ও সুন্দর অবয়বে এ কার্ড বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় তা সাধারণভাবে স্মার্টকার্ড হিসেবেই বিবেচিত হবে। বর্তমানে এক পৃষ্ঠায় নাম, পিতা ও মাতার নাম, জন্মতারিখ ও আইডি নম্বর এবং অন্য পৃষ্ঠায় ঠিকানা সম্বলিত লেমিনেটিং করা কার্ড পাচ্ছেন ভোটাররা। বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে এ সংক্রান্ত চুক্তির পর দুই বছর পার হলেও আইনবিধি না থাকায় স্মার্টকার্ড দেয়ার কাজ শুরু করতেই দেরি হয়। এ বিষয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, এ বছরের অক্টোবরের দিকে স্মার্টকার্ড সদৃশ নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের কাজ শুরুর পরিকল্পনা আমাদের।
এদিকে এ সম্পর্কে ধারণা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিদেশ সফরে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনাররা। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন শাখার আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহান্সড অ্যাক্সেস টু সার্ভিস’ (আইডিয়া) প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের ঋণের টাকায় এ সফর শুরু হয়েছে। এ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনাররা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, যে সব দেশের নাগরিকদের উন্নতমানের জাতীয় পরিচয় পত্র রয়েছে সে সব দেশে এ সম্পর্কিত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ধারণা পাওয়া দরকার। সেই কারণে এ সফর।
ইতিমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট ঘুরে এসেছেন। গত ১৭ এপ্রিল সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার উদ্দ্যেশে ঢাকা ছেড়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাবেদ আলী। নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন আগামী ১ মে। এরপর ১৬ মে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহ নেওয়াজ। অপর নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিদেশ সফরে অনাগ্রহী। তবে শুধু নির্বাচন কমিশনাররাই নন, কমিশনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও এই বিদেশ সফরে তাদের সঙ্গী হচ্ছেন।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাবেদ আলীর সাথে রয়েছেন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলি ও আইডিয়া প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক আবদুল বারী। এ দুই কর্মকর্তা ২৮ এপ্রিল অথবা এর কাছাকাছি সময়ে ঢাকায় ফিরতে পারেন। তবে জাবেদ আলী অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করবেন ১৭ মে পর্যন্ত। মোহাম্মদ আবু হাফিজের সাথে যাচ্ছেন কমিশন সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন শাখার পরিচালক মো. মহাসিন আলী ও কমিশন সচিবালয়ের উপ-প্রধান ড. মো. আমজাদ হোসেন। মোঃ শাহ নেওয়াজের সাথে যাবেন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মখলেছুর রহমান, আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন ও কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান মো. সাইফুল হক চৌধুরী।
এর আগে সিইসি মার্চের ৩ তারিখে ছুটি নিয়ে ব্যক্তিগত সফরে সস্ত্রীক যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও এপ্রিলে সরকারি সফর শেষ করে দেশে ফেরেন। তিনি সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রের নিরাপত্তার বিষয়ে ওরাকল হেড কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন এবং এ সফরের ব্যয়ও (আইডিয়া) প্রকল্পের টাকায় সম্পন্ন হয়। এ সফরে ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন মার্কিন যুক্তরাষ্র্বে ঘুরে এসেছেন।
যে কারণে এ সফর : নির্বাচন কমিশনারদের পক্ষ দাপ্তরিকভাবে জানানো হয়েছে, এদেশের নাগরিকদের ডেটাবেইজ-এর ব্যবস্থাপনা, বায়োমেট্রিক ফিচারসহ পরিচয়পত্র তৈরি ও বিতরণ, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং আপিলের অধিকারসহ এ সংক্রান্ত সেবার বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা নিতেই এ সফর । বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ বছরের শেষ দিকেই দেশে তৈরি হতে যাচ্ছে উন্নতমানের প্রায় ৯ কোটি জাতীয় পরিচয়পত্র। বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালের ২১ জুলাই বিশ্বব্যাংকের সাথে এ সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ প্রকল্পটির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে একটি পুর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল ডাটাবেজ ও নেটওয়ার্ক তৈরি হবে যা সব নাগরিককে স্বচ্ছভাবে সেবা প্রদানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
