বর্তমানে দেশের এক তৃতীয়াংশ লোক কোন না কোন ধরনের শ্রুতিক্ষীণতায় ভুগছেন। শ্রুতি প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং বধিরতার হার ১ দশমিক ২ শতাংশ। দেশে ১৫ বছরে বয়সের নিচের জনসংখ্যার বধিরতার হার অনেক বেশি, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। দরিদ্র জনগণের মধ্যে শ্রুতি প্রতিবন্ধীর হার বেশি (১৫ শতাংশ)। শ্রুতিক্ষীণতার কারণ হিসাবে কানে খৈল, মধ্যকর্ণে পানি, কান পাকা রোগ, কানের ইনফেকশন প্রথমত দায়ী। প্রকৃতপক্ষে জন্মগত বধিরতা ছাড়া বাকি ৫০ ভাগ বধিরতাই নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং চিকিত্সার মাধ্যমে সুস্থ করা সম্ভব। দ্রুত রোগ নির্ণয়, চিকিত্সা এবং জনসচেতনতার মাধ্যমেই ৫০ ভাগ বধির ও শ্রুতিক্ষীণ লোককে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এর নাক কান ও গলা বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশে বধিরতার হার নিরূপণে পরিচালিত জাতীয় জরিপ রিপোর্টে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের সুরমা হলে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এমপি। সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. খালেদ হাসান, বিএসএমএমইউ’র প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ সিকদার, নাক-কান-গলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ আবুল হাসনাত জোয়ারদার। সম্মানিত অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএমএমইউ’র নাক-কান-গলা বিভাগের অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিএসএমএমইউ’র নাক-কান ও গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাসিমা আখতার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ অফিসের ন্যাশনাল প্রোফেশনাল অফিসার (এনসিডি) ডা. এম. মোস্তফা জামান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় পরিচালিত এ জরিপ কার্যক্রম ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশের ৭টি বিভাগের ৫২টি উপজেলায় পরিচালনা করা হয়। এই জরিপ কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ে ৪ হাজার ২২০ জন লোক অংশগ্রহণ করে, যাদের আর্থ সামাজিক অবস্থা, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা এবং কানের শুনানি পরীক্ষা করা হয়।
