ভারতের লোকসভা নির্বাচনের তথ্য নিয়ে গবেষণা করে ব্যাংক অব আমেরিকা মেরিল লিন্চ এর দুই গবেষক বলেছেন, কোনো নির্বাচনে যদি ভোটাররা বিপুল সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে হাজির হয় তবে ফলাফল যায় ‘পরিবর্তনের’ পক্ষে। অর্থাত্, যখন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ তৈরী হয় তখন ‘পরিবর্তন’ নিশ্চিত করতে ভোটাররা ভোট নষ্ট করতে চায় না। গত ৪০ বছরের ভোটের ডাটা পরীক্ষা করে এমন তথ্য পেয়েছেন ওই দুই গবেষক।
জ্যোতিবর্ধন এবং আনন্দ কুমার নামের ওই দুই গবেষক বলেছেন, গত ৪০ বছরের লোকসভা নির্বাচনের তিনটিতে পূর্ববর্তী নির্বাচনের চেয়ে বড় সংখ্যায় ভোটার উপস্থিতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুইবার কেন্দ্রে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। ব্যতিক্রম হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। ওই বছর লোকসভা নির্বাচনে আগের নির্বাচনের চেয়ে কয়েক শতাংশ বেশি ভোটার উপস্থিত হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল কংগ্রেসের সরকার পরিবর্তন হবে। কিন্তু সবার ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে কেন্দ্রীয় সরকারে কংগ্রেস টিকে যায়।
চলতি বছর লোকসভা নির্বাচনে এ পর্যন্ত পাঁচ পর্বের ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে ৬৮ শতাংশ। ২০০৯ সালে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৫৮ শতাংশ। অর্থাত্ এবার ১০ শতাংশ বেশি ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর সুবিধা বিজেপি ও তার জোট এনডিএ ভোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়। এ পর্যন্ত ২৩২ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত আরো ৩১১ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এ প্রসঙ্গে ইনফোসিসের সাবেক পরিচালক মোহনদাস পাই এনডিটিভিকে বলেন, ‘আগের নির্বাচনের চেয়ে পরবর্তী নির্বাচনে ১০ শতাংশ বেশি ভোটার উপস্থিতি কিছুটা অস্বাভাবিক বটে। এবার তাই ঘটেছে। এটা বিজেপি সরকার হবে, নাকি খিঁচুড়ি সরকার হবে নাকি নতুন কোনো দলের উত্থান হবে সেটা জানি না। তবে এটা মন্দ নয় যে, বাতাসে পরিবর্তনের গন্ধ পাচ্ছি। ’
গত ১৭ এপ্রিলের নির্বাচনে পর নরেন্দ্র মোদীও উল্লসিত হয়ে বলেছিলেন, ভোটকেন্দ্রে বিপুল সংখ্যায় ভোটার উপস্থিতি কংগ্রেসের বিদায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুই গবেষকও বলেছেন, এবার তরুণ ভোটারদের মধ্যে ভোট দিতে যাবার আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। অর্থাত্ জনসচেতনতা বেড়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
