দেশে ফের নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কা ১৪ দলের

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৩
বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজত আবারো যে কোন সময় দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। তবে যে কোন সহিংসতা ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার অঙ্গীকার করার পাশাপাশি সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন জোটের নেতৃবৃন্দ। গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে লংমার্চের নামে তথাকথিত গাড়ি-মার্চ শুরু হয়েছে। এটা রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বলেন, ভারতে এখন নির্বাচন হচ্ছে। সেখানে নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অদূর ভবিষ্যতে তিস্তা সমস্যার সমাধান হবে। ভারতে সরকার পরিবর্তন হলেও তিস্তা চুক্তিতে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অতীতে আমরাই গঙ্গা চুক্তি করেছিলাম। মহাজোট সরকারের সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তিস্তা চুক্তি প্রায় সম্পাদিত হতে চলছিল। কিন্তু ভারতের একটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতায় এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজেও এই বিষয়টা নিয়ে বিব্রত বোধ করেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তিস্তা চুক্তিটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। দ্বিপক্ষীয় বিষয়। বিএনপি এই পানি বণ্টন নিয়ে রাজনীতি করার চক্রান্ত করছে। ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি এই সমস্যা সমাধানে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বিএনপি নেত্রী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে দিল্লীতে গিয়ে তিস্তার কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলেন। এখন এটা নিয়ে ইস্যু সৃষ্টি করার অপচেষ্টা সফল হবে না। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করলে সরকার তাদের কোনা ধরনের বাধা দেবে না। তবে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। ১৪ দলের পূর্বঘোষিত তিন দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ এপ্রিল যথাক্রমে খুলনা, সাভার (ঢাকা) ও ময়মনসিংহে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের উদ্যোগে বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, গণ আজাদী লীগের সভাপতি হাজী আবদুস সামাদ, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক প্রমুখ।