মঞ্জুর হত্যা মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে এরশাদকে অব্যাহতি

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৪
জেনারেল এম এ মঞ্জুর হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরো তিন মাস সময় পেল সিআইডি। এর আগে দুই মাস সময় দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলো আদালত; কিন্তু তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়ায় সিআইডির পক্ষ থেকে আরো তিন মাস সময় চাওয়া হয়। ওই আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করে গতকাল ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ খন্দকার হাসান মাহমুদ ফিরোজ আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এছাড়া ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে মামলার মূল আসামি সাবেক সেনাশাসক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচএম এরশাদকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এরশাদের আইনজীবীর করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ঢাকা মেট্রো) আব্দুল কাহহার আকন্দ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চেয়ে আবেদনটি করেন। আবেদনে বলা হয়, নিহত মঞ্জুরের স্ত্রী ও সন্তান কে কোথায় কিভাবে আছেন, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আগের তদন্তে কোথায় কোথায় ত্রুটি আছে, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এ কারণে সময়ের প্রয়োজন। গতকাল ওই আবেদন আদালতে দাখিল করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবুল কাসেম খান। তখন বিচারক বলেন, দুই মাসেও তদন্ত সম্পন্ন করতে পারেননি। সময় দিচ্ছি, তবে তদন্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলবেন। এরপর এরশাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা পর্যন্ত যেন এইচএম এরশাদকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে আদালত সে আবেদনও মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, আদালত পুনরায় এরশাদকে না ডাকা পর্যন্ত তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেবেন। শুনানিকালে এরশাদসহ মামলার অপর দুই আসামি মেজর (অব.) কাজী এমদাদুল হক ও লে. কর্নেল মোস্তফা কামাল উদ্দিন আদালতে হাজির ছিলেন। প্রসঙ্গত, জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি করেন তার ভাই ব্যারিস্টার আবুল মনসুর আহমেদ। ১৯ বছর ধরে মামলাটি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যক বার এ মামলার বিচারক বদল হয়েছে। ১৯ বছরে পরিবর্তন হয়েছেন ২৩ জন বিচারক। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৯৮১ সালে তত্কালীন সেনাপ্রধান এরশাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়।